১৭ বছরে রাষ্ট্রযন্ত্রের বিভিন্ন বিভাগ পঙ্গু করা হয়েছিল: ত্রাণমন্ত্রী

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৩ পিএম

দীর্ঘ ১৭ বছরে রাষ্ট্রযন্ত্রের বিভিন্ন বিভাগকে পঙ্গু করে ফেলা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন দুর্যোগ, ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন সঠিকভাবে কার্যক্রম পরিচালিত না হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে এখনো অনিয়ম, দুর্নীতি ও অসামঞ্জস্য রয়েছে। এসব সমস্যা চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা কমপ্লেক্সের নতুন প্রশাসনিক ভবন ও হলরুম উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বিভাগের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এর প্রভাব প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়েও পড়েছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান অনিয়ম ও অসঙ্গতি একদিনে দূর করা সম্ভব নয়। সরকার এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রযন্ত্রকে আরও কার্যকর করার জন্য কাজ করছে।

তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী ও কার্যকর প্রশাসন প্রয়োজন। রাষ্ট্রের প্রতিটি বিভাগকে জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

কুড়িগ্রামের উন্নয়ন প্রসঙ্গে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, সরকার কুড়িগ্রামকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এই জেলা থেকে সরকার কোনো আসন না পেলেও উন্নয়নের ক্ষেত্রে কুড়িগ্রামকে অবহেলা করা হবে না।

তিনি বলেন, কুড়িগ্রাম দেশের পিছিয়ে থাকা জেলাগুলোর একটি। এখানকার মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সরকারের বিশেষ নজর রয়েছে। জেলার অনেক মানুষ এখনো দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছেন। তাদের জীবনমান উন্নয়নে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্যবিমোচনের কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

মন্ত্রী জানান, কুড়িগ্রামের মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে কাজের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি মানুষের আয় বাড়লে দারিদ্র্য কমার পাশাপাশি জীবনযাত্রার মানও উন্নত হবে।

তিনি আরও বলেন, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্যবিমোচনমূলক প্রকল্পগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে কুড়িগ্রামের মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

উদ্বোধন শেষে মন্ত্রী রাজারহাট উপজেলা কমপ্লেক্সের নতুন প্রশাসনিক ভবন ও হলরুমের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

এমইউ
আরও পড়ুন