ধর্মীয় শিক্ষা ছাড়া কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়: শিক্ষামন্ত্রী

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০২ এএম

ধর্মীয় শিক্ষা ছাড়া কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেন, নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষা থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণে সমাজে অবক্ষয় বাড়ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব বাড়াতে হবে।

 

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে তানযীমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশন আয়োজিত ১৪তম হিফযুল কোরআন অ্যাওয়ার্ড ও কোরআন উৎসব-২০২৬-এর তৃতীয় অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের পূর্বপুরুষেরা মক্তবে গিয়ে ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করেছেন, পাশাপাশি জাগতিক শিক্ষায়ও শিক্ষিত হয়েছেন। তানযীমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশন আধুনিক শিক্ষা, আরবি শিক্ষা ও বিজ্ঞান শিক্ষার সমন্বয়ে শিক্ষাব্যবস্থা চালু করেছে।’ এ জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান তিনি।

 

তিনি বলেন, ‘স্কুলে ৫০ নম্বরের ইসলামি শিক্ষা ও ভাইভা চালু করা হলে শিক্ষার্থীরা বখাটে হবে না। ধর্মীয় শিক্ষা ছাড়া আগামী বাংলাদেশের সামনে এগিয়ে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। এ শিক্ষা ছাড়া কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে না।’

 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে মাদরাসা ও স্কুলের মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য নেই। মাদরাসায় যেমন বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও মানবিক বিভাগ রয়েছে, তেমনি স্কুলেও এসব বিভাগ রয়েছে।’ এ সময় তানযীমুল উম্মাহকে স্বীকৃতি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

 

কিছু মাদরাসায় বছরে মাত্র দু’জন শিক্ষার্থী পাস করলেও সেগুলোর পেছনে সরকারকে ৪৮ লাখ টাকা ব্যয় করতে হয় উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সে হিসাবে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পেছনে ব্যয় হয় ২৪ লাখ টাকা।’

 

তিনি বলেন, ‘কোরআনের পাখিদের বুকে যেন গুলি না করা হয়। এ দিন যেন এ দেশে আর দেখতে না হয়।’ এ ধরনের ঘটনার বিচার আল্লাহ করবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

বর্তমান সময়ে চারিত্রিক অবক্ষয় রোধে শিক্ষকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষকদের মাধ্যমে নৈতিক শিক্ষা গ্রহণ করেই নৈতিক অবক্ষয় থেকে ফিরে আসা সম্ভব।’

 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ রাশেদুল ইসলাম।

 

তৃতীয় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন তামীরুল মিল্লাত ট্রাস্টের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা যাইনুল আবেদীন। 

 

এ সময় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী, হুফফাজুল কুরআন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হাফেজ আবদুল হক, মারকাযুত তাহফিয ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার চেয়ারম্যান হাফেজ নেছার আহমেদ আন নাছিরী, ইসলামী চিন্তাবিদ হাফেজ মুফতি আলী হাসান উসামা, ড. শহিদুল ইসলাম, হাফেজ মুফতি মহিউদ্দিন, মাওলানা শাহ ওয়ালীউল্লাহ, বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ড. মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ এবং জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিনসহ বিশিষ্ট আলেম, শিক্ষাবিদ ও অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

অনুষ্ঠানে তানযীমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশন পরিচালিত বিভিন্ন শাখার ১ হাজার ৭৫৯ জন হাফেজ শিক্ষার্থীকে সম্মাননা দেয়া হয়। একই সাথে তাদের পিতা-মাতাকেও বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।

এইচএন
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত