বাঙালির ইতিহাসের কালরাত ২৫ মার্চ। ১৯৭১ সালের এই রাতে সূচিত হয়েছিল পাকিস্তান বাহিনীর নৃশংস হত্যাযজ্ঞ, যা ‘বাংলাদেশ জেনোসাইড’ নামে পরিচিত। ভয়াবহ সেই নৃশংসতায় শহীদদের স্মরণে সোমবার (২৫ মার্চ) রাতে এক মিনিটের জন্য আলো নেভানো হয়। রাত ১১টা থেকে ১১টা এক মিনিট পর্যন্ত দেশের অনেক স্থানেই আলো জ্বলেনি। ৫৩ বছর আগে অপারেশন সার্চলাইটের অতর্কিত হত্যাযজ্ঞে ঢাকাবাসীর ঘরে ঘরে যে আলো নিভিয়ে দিতে হয়েছিল, তারই স্মরণে সপ্তমবারের মতো ছিল এ প্রতীকী আয়োজন।
গণহত্যা দিবসের জাতীয় কর্মসূচি হিসেবে সোমবার রাত ১১টা বাজতেই রাজধানীজুড়ে এক অদ্ভুত আঁধার নেমে আসে। নিভে যায় প্রদীপ। দেশবাসীও নিজ নিজ বাড়িতে বাতি নিভিয়ে ভয়াল রাতের স্মৃতিকে ফিরিয়ে আনেন ক্ষণিকের জন্য। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে দেশব্যাপী এক মিনিটের এই ‘ব্লাক আউট’ কর্মসূচি পালন করা হয়। তবে কেপিআইভুক্ত প্রতিষ্ঠান এ কর্মসূচির বাইরে ছিল।
তেপ্পান্ন বছর আগের ভয়াল রাতটি স্মরণে এই কর্মসূচি পালনের তথ্য ২৩ মার্চ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গণহত্যা দিবস স্মরণে অনুষ্ঠেয় এ কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে কেবল কেপিআই ও জরুরি স্থাপনা।
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রাজধানীর রেসকোর্স মাঠে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণে স্বাধীনতার দিকনির্দেশনা পাওয়ার পর মুক্তিকামী জনতার মধ্যে বিদ্রোহ দানা বাঁধতে থাকে। অন্যদিকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নিধনযজ্ঞের প্রস্তুতি নেয়। বাঙালির মুক্তির আন্দোলনকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্য ২৫ মার্চ রাতে এ দেশের নিরস্ত্র মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। এর মধ্য দিয়ে শুরু হয় ‘অপারেশন সার্চলাইট’।
পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সেই অভিযানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, রমনা কালীমন্দিরসহ বিভিন্ন এলাকায় গণহত্যা চালায়। শুধু ঢাকায়ই অন্তত ৭ হাজার বাঙালিকে হত্যা করা হয়।
পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যান। সশস্ত্র সংগ্রামে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আসে স্বাধীনতা।

