কাপ্তাই লেক শুধু প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, অর্থনৈতিক চালিকাশক্তিও: মৎস্য উপদেষ্টা

আপডেট : ১২ মে ২০২৫, ০৭:৩৭ পিএম

বাংলাদেশের বৃহত্তম কৃত্রিম হ্রদ কাপ্তাই লেককে জাতীয় সম্পদ আখ্যায়িত করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, হাজার হাজার জেলে ও তাদের পরিবার কাপ্তাই লেককেন্দ্রিক জীবিকা নির্বাহ করেন। তাই এই হ্রদ শুধু একটি প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, এটি একটি অর্থনৈতিক চালিকাশক্তিও। 

তিনি জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে হ্রদ থেকে প্রায় ৯ হাজার মেট্রিক টন মাছ আহরণ করে প্রায় ১৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।

সোমবার (১২ মে) রাঙামাটিতে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) আয়োজিত ‘কাপ্তাই হ্রদে পোনা অবমুক্তকরণ ও ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে চাল বিতরণ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

এ সময় কাপ্তাই লেক রক্ষা ও উন্নয়নে সরকার কার্যকর এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেবে বলেও জানান তিনি।

উপদেষ্টা বলেন, কাপ্তাই হ্রদে এক সময় ৮৬টি প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৬৬-তে। এই প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। তিনি জেলেদের উদ্দেশ্যে বলেন, মাছ শুধু ধরলেই হবে না, তাদের প্রজননের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য গবেষণা, সচেতনতা ও অংশীদারিত্বমূলক কার্যক্রম প্রয়োজন।

মৎস্য আহরণ বন্ধ মৌসুমে মাছ ধরার প্রবণতা বন্ধে কার্যকর মনিটরিংয়ের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে যারা মাছ ধরছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে ভিজিএফ কার্ডধারী জেলেদের জন্য চালের পরিমাণ ২০ কেজি থেকে বাড়িয়ে ৪০ কেজি করার ঘোষণা দেন তিনি।

পর্যটকদের দায়িত্বহীন আচরণে হ্রদের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, পর্যটকরা ঘুরতে এসে হ্রদে প্লাস্টিক, খাবারের প্যাকেট ফেলে দেন, যা মাছের প্রজনন ও জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি। জেলা পরিষদ ও প্রশাসন মিলে সচেতনতা বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারে।

পরে উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) নদী উপকেন্দ্র রাঙামাটি পরিদর্শন এবং মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সেখানে তিনি বলেন, হারিয়ে যাওয়া মাছের প্রজাতি পুনরুদ্ধারে বিএফডিসি, বিএফআরআই এবং মৎস্য অধিদপ্তরকে একযোগে কাজ করতে হবে। গবেষকদের উদ্দেশে বলেন, দেশের স্বার্থে আপনাদের গবেষণাকে আরও ফলপ্রসূ ও দায়িত্বশীল হতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএফডিসির চেয়ারম্যান সুরাইয়া আখতার জাহান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. তোফাজ্জেল হোসেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা, রাঙামাটি রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ, পুলিশ সুপার এস এম ফরহাদ হোসেন এবং বিএফআরআই মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্র।

 

 

Raj/FJ
আরও পড়ুন