ঢাকা
সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২
ই-পেপার

বঙ্গোপসাগরে ৬৫টি নতুন প্রজাতির মাছের সন্ধান

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:৪৬ পিএম

বঙ্গোপসাগরে ৬৫টি নতুন প্রজাতির মাছের সন্ধান মিলেছে, যার মধ্যে ৫টি প্রজাতি বিশ্বের অন্য কোনো সাগরে নেই। তবে সুসংবাদের পাশাপাশি দুঃসংবাদ হলো অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত আহরণ এবং পরিবেশদূষণের কারণে সাগরে মাছের সার্বিক মজুদ বা স্টক কমে যাচ্ছে।

রোববার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘ইকোসিস্টেম অ্যাপ্রোচ টু ফিশারিজ-নানসিন সার্ভে ২০২৫’ শীর্ষক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। অনুষ্ঠানে বিশ্বখ্যাত গবেষণা জাহাজ ‘আর ভি ড. ফ্রিজতভ নানসিন’-এর সাম্প্রতিক জরিপের ফল উপস্থাপন করা হয়।

মৎস্য উপদেষ্টা বলেন, ‘সমুদ্রের মাছ প্রকৃতির অমূল্য দান হলেও অতি আহরণ, অবৈধ জাল ব্যবহার এবং ব্যবস্থাপনার অভাবে এই সম্পদ হুমকির মুখে। জরিপে দেখা গেছে, সাগরে মাছের স্টক কমছে, যা গভীর উদ্বেগের বিষয়।’

ফরিদা আখতার জানান, সাগরের কোথাও কোথাও অক্সিজেনের স্বল্পতা, মাইক্রোপ্লাস্টিকের উচ্চ ঘনত্ব এবং জেলিফিশের অস্বাভাবিক বিস্তার লক্ষ্য করা গেছে। এগুলো সামুদ্রিক পরিবেশ বিপর্যয়ের স্পষ্ট সতর্কবার্তা। এছাড়া ২৭৩টি শিল্প ট্রলারের মধ্যে ৭২টিতে সনার (Sonar) প্রযুক্তি থাকলেও তা সঠিকভাবে ব্যবহার না করায় অনাকাঙ্ক্ষিত মাছ ধরা ও অপচয় বাড়ছে। এ সময় তিনি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রলারের লাইসেন্স প্রদান সীমিত করা এবং ট্রলারভিত্তিক মৎস্য আহরণে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের তাগিদ দেন।

২১ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত পরিচালিত এই জরিপে ৪৭৫ প্রজাতির মাছ, ৩৬ প্রজাতির চিংড়ি, ৫ প্রজাতির লবস্টার, ১৫টির বেশি প্রজাতির কাঁকড়া, ৫ প্রজাতির কচ্ছপ ও ১৩ প্রজাতির প্রবাল শনাক্ত করা হয়েছে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, নতুন আবিষ্কৃত ৬৫টি প্রজাতির মধ্যে ৫টি প্রজাতি শুধু বঙ্গোপসাগরেই বিদ্যমান। তবে জলবায়ু পরিবর্তন ও দূষণের কারণে এসব জীববৈচিত্র্য এখন সংকটে।

অনুষ্ঠানে মৎস্য উপদেষ্টা নরওয়ে সরকার ও এফএও-কে ভবিষ্যতে সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং বাংলাদেশের নিজস্ব গবেষণা জাহাজ সংগ্রহের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

DR
আরও পড়ুন