শুধু এলপিজি নয়, প্রতিটি নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে : শামসুজ্জামান দুদু

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, শুধু এলপিজির দাম বৃদ্ধি হয়নি, প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ড. ইউনূস রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন, তিনি এনজিওর মানুষ। এছাড়া তিনি অর্থনীতির মানুষ। মানুষের দুঃখ, কষ্ট, অভাব ও অভিযোগ সম্পর্কে তার তো ধারণা থাকার কথা। এসবকিছু বর্তমান সরকারের কাছে অভিযোগ করলেও, তার মীমাংসা আমরা পাচ্ছি না।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের উদ্যোগে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবিতে এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনই পারে দেশকে সংকট থেকে উদ্ধার করতে। ভালো নির্বাচন ব্যর্থ হলে শুধু সরকার নয়, পুরো দেশবাসীকেই এর ভয়াবহ খেসারত দিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, এই সরকার আর খুব বেশিদিন নেই। এক মাসেরও কম সময়  আছে জাতীয় সংসদের নির্বাচনের। জাতীয় সংসদের নির্বাচনের পরপরই দেশে একটি সরকার গঠিত হবে। সেই সরকার যদি দেশপ্রেমিক হয়, যদি মানুষের অনুভূতি ধরতে পারে, তাহলে দেশ সমৃদ্ধিশালী হবে, শত্রুর হাত থেকে রক্ষা পাবে। স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষা পাবে। এই কারণে আগামী ১২ তারিখে ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনে যদি আমরা ভুল করি, তাহলে সরকার ভুলের খেসারত দেবে, দেশবাসী ভুলের খেসারত দেবে, দেশের স্বাধীনতা সর্বসম্মতভাবে হুমকির মুখে পড়বে।

সবাইকে আহ্বান জানিয়ে সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, আসুন— নির্বাচনকে ভালো করার জন্য যে কাজগুলো করা দরকার, তার মধ্যে অন্যতম হলো মানুষ যেন নির্বিঘ্নে, নির্ভয়ে ও নিরাপত্তার সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে। গত ১৫-১৬ বছর ধরে আমরা দেখেছি মানুষ ভোটকেন্দ্রে যায়নি, ভোট হয়ে গেছে আগেই। শেখ হাসিনা দাবি করতেন তিনি জনগণের দ্বারা নির্বাচিত। আমরা বলি, সেই তিনটি নির্বাচন ছিল তামাশার নির্বাচন। দেশবাসীসহ সারা বিশ্ব দেখেছে, ওগুলো কোনো নির্বাচনই ছিল না।

তিনি আরও বলেন, একমাত্র শেখ হাসিনা আর তার প্রিয় বন্ধু মোদি কিংবা ভারত এই নির্বাচনগুলোকে অনুমোদন করেছে। আজও সেই মোদির দেশেই বাংলাদেশের গণহত্যাকারী, গণধিকৃত শেখ হাসিনা আশ্রয় নিয়েছে।

দুদু বলেন, নির্বাচনের জন্য জরুরি হলো তড়িৎভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করা। আইনশৃঙ্খলা যেন ভালো থাকে-এটা দেশের কথা, দেশের মানুষের কথা। সেই কারণে সরকারকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকার জানে বিষয়টি, তারপরেও এখনো পর্যন্ত উপযুক্ত পদক্ষেপ নেয়নি।

ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, আসুন ভালো নির্বাচনের জন্য আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। আমরা জানি ভালো নির্বাচন হলে এই দেশে যে সরকার আসবে, সেই সরকার হবে শহীদ জিয়ার সরকার। যে সরকার আসবে, সেটি হবে বেগম খালেদা জিয়ার সরকার। আর সেই সরকারের প্রধানমন্ত্রী হবেন তারেক রহমান। সেজন্য আসুন, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে একটি দেশপ্রেমী, গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রচেষ্টা চালাই।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের প্রধান সমন্বয়ক খন্দকার লুৎফর রহমান, মুখপাত্র এস এম শাহাদাত প্রমুখ।

SN
আরও পড়ুন