ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া দলগুলোর প্রধানদের ভাষণ প্রচারের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ নিয়ে ব্যবস্থা নিতে বিটিভিকে চিঠি দিয়েছে ইসি। বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি বিটিভিতে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভাষণ প্রচারিত হবে। এছাড়া জামায়াত ও এনসিপি প্রধানের ভাষণও প্রচারিত হবে।
নির্বাচন কমিশনের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মো. আসাদুল হক সময়ের আলোকে বলেন, বিএনপি ছাড়াও জামায়াত ইসলামী ও এনসিপির প্রধান বা প্রতিনিধির ভাষণ বিটিভিতে প্রচারের জন্য আবেদন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) এ বিষয়ে বিটিভি মহাপরিচালককে চিঠি দিয়েছেন ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক।
চিঠিতে বলা হয়েছে, সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য নির্বাচনি পরিবেশ সৃষ্টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারণার ক্ষেত্রে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নির্বাচনি পরিবেশে সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশ টেলিভিশনে দলীয় প্রধানের নির্বাচনি প্রচারের জন্যে স্লট বরাদ্দের বিষয়ে কমিশন নির্দেশনা দিয়েছেন। এক্ষেত্রে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ৬ (জনসভা, পথসভা ও সমাবেশ অনুষ্ঠান)-এর উপবিধি (গ)- এর অনুসরণে লিখিত আবেদন প্রাপ্তির সময়ের ক্রমানুসারে স্লট নির্ধারণ করতে হবে; বিটিভি কর্তৃক প্রতি রাজনৈতিক দলের প্রধানের জন্য স্লট বরাদ্দ এবং স্লটের মেয়াদ নির্ধারণ করতে হবে; প্রচারণা রেকর্ডিংয়ের তারিখ ও সময় সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা করে বিটিভি নিষ্পত্তি করবে।
বৃহস্পতিবার ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে এবার ৫১টি দল ভোটে অংশ নিচ্ছে। নিবন্ধিত এসব দলের মধ্যে কতটি দলের প্রধানের ভাষণের রেকর্ড কখন, কোন দিন প্রচার করা হবে সে বিষয়ে শিগ্গিরই জানিয়ে দেওয়া হবে বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে ২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনের আগে প্রচারণার শেষ সময়ে এসে প্রধান কয়েকটি দলের প্রধানদের ভাষণ প্রচার করা হয়। এ ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সালে দশম সংসদ নির্বাচনের আগেও প্রচার করা হয়েছে। সে সময় এ সংক্রান্ত নীতিমালাও চেয়েছিল তৎকালীন বিটিভি কর্তৃপক্ষ।
নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলীয় প্রধান বা প্রতিনিধির ভাষণের বিষয়টি বিটিভি সিদ্ধান্ত নেবে। কারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে, কত আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রয়েছে তা বিবেচনা করে অতীতের ধারাবাহিকতায় তা হতে পারে বলে জানান ইসি কর্মকর্তারা।
ইসি কর্মকর্তারা বলেন, একাদশ ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে এটা আর ধরে রাখেনি তৎকালীন ইসি। এবার আবার চালু হতে যাচ্ছে।
ভোটের আগে প্রচারের শেষ সময় ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা। সেক্ষেত্রে ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভাষণ প্রচারের কাজ শেষ করতে চায় বিটিভি।
বিটিভির মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম বলেন, দলীয় প্রধানের ভাষণের সম্প্রচারের বিষয়ে সব কিছু নির্বাচন কমিশন নির্ধারণ করবেন। নীতিমালাটি ইসি নির্ধারণ করে দেবে। ভোটে অংশ নেওয়া দলগুলো যেভাবে মনে করছেন, কেউ কেউ আবেদন করছেন, কেউ কেউ এখনও আবেদন করেনি, তাতে কিছু যায় আসে না। আমরা যে ইন্সট্রাকশন পাব সেভাবে ইনভাইট করবো।
বিটিভি মহাপরিচালক বলেন, অর্ধশত দল ভোটে অংশ নিলেও প্রধান কয়েকটি দল বিশেষ করে যাদের প্রার্থী বেশি তাদর বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হতে পারে। তা না হলে ভাষণ প্রচারের ব্যবস্থা কঠিন হয়ে যাবে। ৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করতে হবে। ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী এ কাজটা করা হবে। চূড়ান্ত হলেই ব্যবস্থা নেবে কর্তৃপক্ষ।
নবম সংসদ নির্বাচনসহ আগের নির্বাচনগুলোতে দলীয় প্রধানদের ভাষণ সম্প্রচার হয়েছে। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারণার শেষের দিন (২৭ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৮টায় শেখ হাসিনা ও সোয়া ৯টা খালেদা জিয়া) আধঘণ্টারও বেশি জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছিলেন প্রধান দুই দলের নেতা।
এবার বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সর্বোচ্চ ২৯২ জন ভোটের মাঠে রয়েছে। এরপর আছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, দলটির প্রার্থী সংখ্যা ২৫৩।
এই হিসাবে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সংখ্যায় তৃতীয় সর্বোচ্চ। আর জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মোট ২২৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এছাড়া জাতীয় পার্টির ১৯২ জন, গণঅধিবার পরিষদের ৯০ জন এবং এনসিপির ৩২ জন প্রার্থী ভোটে রয়েছেন।
ঢাকায় ২ দিনে ১৪ জনসভায় যোগ দিবেন তারেক রহমান
তারেক রহমানকে নির্বাচনি বিতর্কে অংশ নেওয়ার আহ্বান জামায়াত আমিরের
নতুন চাঁদাবাজরাই বাংলাদেশের ‘নতুন জালেম’: নাহিদ ইসলাম
