সংসদ হবে সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু: জামায়াত আমির

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫৪ পিএম

গতানুগতিক কোনো বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী সংসদে ফাংশন করতে চায় না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। 

তিনি বলেছেন, আমরা চাই এই সংসদ হোক অর্থবহ, জনগণের সব চাওয়া পাওয়ার কেন্দ্র। সরকারি দল যেমন দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন আমরাও বিরোধী দলের অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে চাই। আমরা চাই না জাতীয় সংসদের একটা সেকেন্ড নষ্ট হোক। জাতীয় সংসদ কারো চরিত্র হননের কেন্দ্রবিন্দু হোক, সেটা চাই না। বরং জাতীয় সংসদ হবে দেশের সমস্যার সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু। 

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সোয়া ৫টায় রাজধানীর 'বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে' জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ইফতার মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের সঞ্চালনায় কারি বেলাল হোসাইনের পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

এছাড়াও উপস্থিত হয়েছেন সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এমপি ও নেতা, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, সাবেক বিচারপতি ও সিনিয়র আইনজীবী, কৃষিবিদ, চিকিৎসক, ওলামা-মাশায়েখ, কবি সাহিত্যিক, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদের নির্বাচিত নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। 

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শেষে সভাপতির বক্তব্যে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতে আমরা বিরোধী দল দেখেছি। নির্বাচন যেমন আমি-ডামি ছিল সরকারিও বিরোধী দলও তেমনি আমি-ডামি ছিল। এই ধরনের কোনো বিরোধী দল কোনো দেশের জন্য ভালো কোনো বার্তা বয়ে আনতে পারে না। 

তিনি বলেন, সরকারের গৃহীত সব সংগত পদক্ষেপে আমাদের পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতাও থাকবে। কিন্তু আমাদের বিবেচনায় আমরা যদি দেখি যে সরকার কোনো অসংগত সিদ্ধান্ত কিংবা পদক্ষেপ নিয়েছেন আমরা প্রথমে দৃষ্টি আকর্ষণ করবো, করে সহযোগিতা করবো। সরকার আমাদের পরামর্শগুলো গ্রহণ করলে আমরা কৃতজ্ঞ হবো, জাতী উপকৃত হবে। সরকার আমাদের পরামর্শ গ্রহণ না করলে বিরোধী দলের যে ভূমিকা সেটাই আমরা পালন করবো।

তিনি আরও বলেন, বিরোধী দল হিসেবে আমরা জাতির অধিকারের পক্ষে দাঁড়াবো এবং জাতিকে আমাদের সঙ্গে শামিল থাকতে বলবো। তবে আমরা এই সদিচ্ছায় রাখতে চাই এই ধারণাই পোষণ করতে চাই যে, এই সরকার সংসদকে আগামীতে এগিয়ে যাওয়ার বাহনে পরিণত করবে।

জামায়াত আমির বলেন, কোনো বাহন কখনো এক চাকায় চলে না, দুটো চাকা মিনিমাম লাগবে। সরকারি দল যদি সামনের চাকা হয় তাহলে বিরোধী দল হবে পিছনের চাকা। একটা বাদ দিয়ে যানবাহন অবস্থায় আরেকটা একা চলতে পারবে না। আমরা সেই পথ চলায় সমন্বয় চাই এবং পারস্পরিক সম্মানের জায়গাটা চাই।

তিনি বলেন, আমরা আমাদের মহান জাতীয় সংসদের একটা সেকেন্ড নষ্ট হোক তা প্রত্যাশা করি না। চাই না জাতীয় সংসদ কারো চরিত্র হননের কেন্দ্রবিন্দু হোক। বরং জাতীয় সংসদ হবে দেশের সমস্যার সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু। যে সব কালো আইন এখনো আমাদের সংবিধানে রয়ে গেছে আমরা সম্মিলিতভাবে সেগুলা দূর করার প্রয়াস চালাবো। আর জাতিকে একটা সুস্থ বিকশিত সম্মানের জাতি হিসেবে বিশ্বের দরবারে দাঁড় করানোর জন্য। যে আইন সংযোজনের প্রয়োজন আমরা প্রত্যাশা করবো যে সরকারি দল এবং বিরোধী দল মিলে সেভাবেই আমরা এগিয়ে যাবো।

বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, যদি এ রাজনীতিটা আমরা করতে পারি তাহলে অতীতের রাজনীতির যে হতাশাজনক ধারা এখন পর্যন্ত জাতিকে গ্রাস করে আছে, তার করাল গ্রাস থেকে আশা করি জাতি মুক্তি পাবে ইনশাআল্লাহ। 

তিনি ইফতার মাহফিল থেকে ৪৭, ৫২, ৭১, ৯০ ও ২০২৪ সালে জাতির জন্য লড়াই করে জীবন দিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়া প্রত্যেককে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। 

জামায়াত আমির বলেন, যাদের অন্তরে আল্লাহর ভয় থাকে আমরা বিশ্বাস করি, তাদের হাতে কখনো মানুষের আমানতের খেয়ানত হতে পারে না। তারা মানুষের আমানতের ব্যাপারে বড়ই সতর্ক সজাগ থাকেন। 

বিশ্বনন্দিত মুফাসসিরে কোরআন আল্লামা দিলাওয়ার হোসেন সাঈদীকে স্মরণ করে জামায়াত আমির বলেন, ২০১৩ সালের এই দিনটি এই জাতির জন্য একটি কালো দিন ছিল। সেদিন একটি পারভার্টেড কোর্ট তাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছিল। তার প্রতিবাদে শুধু আমাদের দলীয় কর্মীরা নয় সারাদেশের মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়েছিল। মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদকে দমন করার জন্য সরকার অস্ত্রের ভাষা খুঁজে নিয়েছিল এবং একদিনেই ৭০ জন মানুষকে খুন করেছিল। এরপরে এক সপ্তাহে ১৬৪ জনকে খুন করেছিল। স্মরণ করেন জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের যাদের বিচারিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রয়াত বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে জামায়াত আমির বলেন, সে সময় তিনি বিদেশ সফরে ছিলেন। সিঙ্গাপুর থেকে ফিরে এসে তিনি এই অন্যায় হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করেছিলেন। আমরা তখন জেলে ছিলাম। আমরা জেল থেকে তা শুনেছি দেখেছি। তিনি এটাকে গণহত্যা বলে আখ্যায়িত করেছিলেন এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে মুক্তিকামী মানুষের লড়াই বলে এটাকে তিনি অভিনন্দিত করেছিলেন। এই প্রতিবাদের সঙ্গে তিনি একাত্ম হয়ে সারাদেশে হরতাল ঘোষণা করেছিলেন। আমরা তার এই ভূমিকাকে চিরদিন কৃতজ্ঞতা বলে স্মরণ করবো। 

জামায়াত আমির বলেন, তিনি আজ দুনিয়ায় নেই। আল্লাহ তাালার দরবারে দোয়া করি আল্লাহ তাআলা তার এই বান্দিকে উচ্চ মর্যাদায় একজন জান্নাতি মেহমান হিসেবে রাখুন। আজকে তার সন্তানের উপরে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব করেছে। 

ইফতার মাহফিলে মোনাজাত করেন বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক।

NB/AHA
আরও পড়ুন