বাজেট বাস্তবায়নে যাচ্ছেতাই খরচ করার অধিকার জনগণ কাউকে দেয়নি

আপডেট : ০৮ জুন ২০২৬, ০৮:০৬ পিএম

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, পীর সাহেব চরমোনাই বলেছেন, বাংলাদেশে প্রায় কোটি জনতা নিবন্ধিত করদাতা। যারা তাদের আয়ের ওপরে কর প্রদান করেন। কিন্তু বাজেটে রাজস্ব প্রদান করেন এদেশের সকল জনতা। তাদের প্রাত্যাহিক ক্রয়-বিক্রয়সহ প্রত্যেকটি সুবিদা গ্রহণের বিপরিতে কর দেয়, একজন ফকিরও কর প্রদান করে। সেই করের টাকার বাজেটের অর্থ বাস্তবায়নে ছলচাতুরি,টালবাহানা, অপচয় ও যাচ্ছেতাই খরচ করার অধিকার জনগণ কাউকে দেয়নি।

সোমবার (৮ জুন) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির হলে অনুষ্ঠিত 'বাংলাদেশের আগামী অর্থ বছরের বাজেট; আমাদের ভাবনা ও জনগনের প্রত্যাশা' শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে এই মন্তব্য করেন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আয়োজিত বাজেট আলোচনায় মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, পীর সাহেব চরমোনাই আরো বলেন, সরকার প্রতিবছর বাজেট পেশ করে এবং সংসদে পাশ করিয়ে নেয়। কিন্তু এই বাজেট বাস্তবায়নে সরকারের যথাযথ নজরদারী, আমনতদারী ও জবাবদিহিতার যথেষ্ঠ ঘাটতি বরাবরই পরিলক্ষিত হয়। ফলে জনগনের কষ্টের টাকার বাজেটের একটি বড় অংশই অপব্যয়িত হয়। ক্রয় দুর্নীতির মাধ্যমে পাচার হয়ে যায়। এই ধারা রোধ করতেই হবে।

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, বাজেট কেবল অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নয় বরং জনগণের দায়বদ্ধতার অঙ্গিকার। জনগনের করের টাকায় বাজেট হয়, ঋণও জনগনের ওপরে চাপানো হয়। কিন্তু জনগণ এই বাজেটের সুবিধা কতটা পাচ্ছে তা বিবেচনায় নেয়া হয় না। বাজেটে যে সুবিধা জনগনের পাওয়ার কথা বলা হয় তাও জনগনের কাছে পৌছায় না দুর্নীতিগ্রস্থ সামগ্রিক সিস্টেমের কারণে। তাই বাজেট যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হতে হলে শুধু নেতা নয় নীতির পরিবর্তনও ঘটাতে হবে।

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা তৈরিতে শরীয়াহ একটি কার্যকর টুলস।

ডক্টর আফম খালিদ হোসেন বলেন, বাজেটে কওমী ও আলিয়া মাদ্রাসার জন্য উপবৃত্তি চালু করা, ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন ও গবেষণাখাতে বরাদ্দের দাবী জানাচ্ছি। আমলাতন্ত্রের জটিলতা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, আমলাতন্ত্রের জন্য কোন কাজই করা যায় না। এই জটিলতা রোধে শরীয়াহ বেজড সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা ছাড়া বিকল্প নাই।

গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিতি ছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ডক্টর আফম খালিদ হোসেন, বরগুনা-১ এর সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হাসান অলিউল্লাহ, চর্চার সম্পাদক ও বিশিষ্ট্য সাংবাদিক সোহবার হোসেন, সাবেক রাস্তদূত গোলাম মসিহ, ক্যাবের কো-অর্ডিনেটর ইঞ্জিনিয়ার এম এ এম গোলাম কিবরিয়া, ইসলামিক চেম্বার অব কমার্সের সদস্য সচিব মাওলানা মোফাজ্জল ইবনে মাহফুজ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট শেখ আব্দুল্লাহ নাসের, নিজাম গ্রুপের এমডি মোহাম্মাদ নিজাম উদ্দিন, জয় গ্রুপের চেয়ারম্যান মুজিবর রহমান শামীম।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, যুগ্মমহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম,অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ,সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আব্দুল কাইয়ুম, কেএম আতিকুর রহমান, মাওলানা লোকমান হোসেন জাফরী, ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ, সহ প্রচার সম্পাদক কে এম শরীয়াতুল্লাহ, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ইমরান হোসেন নুর।

AS
আরও পড়ুন