ভারতের আসামে বাঙালি মুসলিমদের ঘরবাড়ি উচ্ছেদ ও মসজিদ ভাঙার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। এ ঘটনায় ভারত সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ ঘটনায় নিন্দা জানান এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক।
পোস্টে সারজিস আলম লেখেন, ‘আসামে কর্তৃপক্ষের অভিযানে ১ হাজার ১০০টির বেশি বাঙালি মুসলিম পরিবারের ঘরবাড়ি উচ্ছেদ করা হয়েছে। এ সময় ১০টির বেশি মসজিদও ভাঙা হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে কয়েকটি মসজিদ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে টিকে ছিল।’
তিনি বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ সরকারি ও বনভূমি থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের যুক্তি দিলেও ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবারের সঙ্গে ওই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। যথাযথ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে পরিবারগুলোকে উচ্ছেদ করায় অনেকে অসহায় অবস্থায় পড়েছেন। কিছু পরিবারকে আটককেন্দ্রে রাখার খবরও পাওয়া গেছে।’
পোস্টে আরও বলা হয়, ভারতে বাঙালি মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও নিপীড়নের একটি উদ্বেগজনক ধারা রয়েছে। গত এক দশকে প্রায় ১৯ হাজার পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
সারজিস আরও লেখেন, ‘বাঙালি মুসলিমরা দীর্ঘদিন ধরে দমন-পীড়ন, জোরপূর্বক অন্যত্র পাঠানো এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার মতো পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন। এসব পদক্ষেপ সংখ্যালঘুদের অধিকার ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে।’
১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের প্রসঙ্গ টেনে পোস্টে এনসিপি নেতা বলেন, ‘ঘটনাটি ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও সাম্প্রদায়িক বিভাজনের প্রতীক হয়ে রয়েছে।’
পোস্টে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সারজিস বলেন, ‘ভারতের মুসলিমদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।’ মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অভিযোগে ভারত সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনারও আহ্বান জানান তিনি।
এনসিপির এ নেতা তার পোস্টের শেষাংশে বলেন, ‘জাতি, ধর্ম বা সাংস্কৃতিক পরিচয় নির্বিশেষে ভারতের সব নাগরিকের জন্য ন্যায়বিচার ও সমতা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। ভারতের মুসলিমরাও ভারতীয়।’
হঠাৎ হাসপাতালে ভর্তি স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড.মঈন খান
আসামে ১১০০ মুসলিম পরিবারকে উচ্ছেদ, গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ১০ মসজিদ
হরমুজে জাহাজ পাহারা দিলে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার হুমকি আইআরজিসি'র