বিএনপি ক্ষমতার অপব্যবহার করছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতির পুরোনো রাজনীতিতে ফিরে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। দলটি এই অবস্থান থেকে বেরিয়ে না এলে তাদের বিরুদ্ধে রাজপথের কর্মসূচি আরও শক্তিশালী করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভোলায় এনসিপির জেলা সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন সারজিস আলম।
সারজিস আলম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে পাশাপাশি রেখে তুলনা করবেন না। আওয়ামী লীগ খুনি, স্বৈরাচারী ও গণহত্যাকারী। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের পতন হয়েছে, ভারতে গিয়ে তাদের দাফন হয়েছে।’
বিএনপির সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিএনপির চাঁদাবাজি, জমি দখল, ভূমিদস্যুতা, থানা ও অফিস দখলের কঠোর সমালোচনা আমরা করব। তবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির তুলনা করব না।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপির ছয় মাসের কার্যক্রম নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। তারা ধীরে ধীরে লাইনচ্যুত হয়ে যাচ্ছে। বিএনপি ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। তারা প্রত্যেক জায়গায় দলীয়করণ করছে, স্বজনপ্রীতি করছে।’
বিসিএস পরীক্ষার ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর অভিযোগ তুলে সারজিস বলেন, ‘বিসিএস ভাইভায় তারা নম্বর বাড়িয়েছে, যেন প্রিলিমিনারি কোটায় টিকলে তাদের দলীয় কোটায় চাকরি দেয়া যায়। আমরা মনে করি, বিএনপিকে এই পুরোনো কায়দা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।’
প্রশাসনে দলীয় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘ডিসি, এসপি, ওসি, ইউএনও; সবগুলো বিএনপির নেতা বিএনপির অফিস থেকে তাদের মতো করে চালাতে চায়।’
এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘বিএনপি এই পুরোনো চরিত্র, পুরোনো অভ্যস্ততা ও পুরোনো মনস্তত্ত্ব থেকে বেরিয়ে না এলে বাংলাদেশের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার সম্ভব নয়। আমরা বিএনপির এই কর্মকাণ্ডের যৌক্তিক সমালোচনা করব। তাদের এ জায়গা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’
তা না হলে বিএনপির রাজনীতি ধীরে ধীরে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাবে মন্তব্য করে সারজিস আলম বলেন, ‘গণভোটের রায় যদি বাস্তবায়ন না করে এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখে, তাহলে পাঁচ বছর বিএনপির জন্য ক্ষমতায় টিকে থাকা সম্ভব হবে না বলে আমরা মনে করি।’
নতুন পে স্কেল বাড়ানোর উদ্যোগের জন্য সরকারকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
সারজিস আলম বলেন, ‘বর্তমান সময়ে আগের বেতন স্কেল দিয়ে একজন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর পক্ষে পরিবার নিয়ে চলা কঠিন। জনগণের কষ্টার্জিত করের টাকা থেকে আপনাদের বেতন বাড়ানো হয়েছে। এখন আপনারা দায়িত্ব, পেশাদারিত্ব ও সততা সর্বোচ্চ পর্যায়ে দেখানোর চেষ্টা করুন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এরপরও যদি দুর্নীতি দেখতে পাই, টাকার বিনিময়ে কাজ করতে দেখি, তাহলে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে বাংলাদেশের মানুষ আপনাদের বিরুদ্ধে নামবে। তখন কেউ অফিস-টফিস করতে পারবেন না।’
এর আগে এনসিপির ভোলা জেলা সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালায় অংশ নেন সারজিস আলম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন, যুবশক্তির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদাত খন্দকার মঞ্জু, জাতীয় যুবশক্তির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রাসেল মাহমুদ, এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য কাজী সালমান ও রায়হানুল ইসলাম, ভোলা জেলা এনসিপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান এবং আহ্বায়ক মো. মাকসুদুর রহমানসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
‘নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নোংরা ভাষার জবাব দেওয়া আমার ঠিক হয়নি’
সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন আসিফ মাহমুদ
ঢাকা-রংপুর লংমার্চ সফল করতে জামায়াতের প্রস্তুতি বৈঠক