জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সাধারণ মানুষ মরেছে, নেতাদের কেউ না: সারজিস আলম

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:১৫ পিএম

জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম প্রশ্ন রেখে বলেছেন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে কয়জন রাজনৈতিক নেতার সন্তান জীবন দিয়েছে? একবার হিসাব করে দেখুন। মরেছে সাধারণ মানুষের ছেলেমেয়েরা, শ্রমজীবী মানুষেরা। আর সেই আন্দোলনের মাঝখান থেকে লাভের ভাগ নিয়েছে তথাকথিত কিছু রাজনৈতিক চতুর লোক।

শনিবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে তেঁতুলিয়া উপজেলার ঐতিহাসিক তেঁতুলতলা চৌরাস্তা বাজারে অনুষ্ঠিত লংমার্চের পথসভায় এ মন্তব্য করেন সারজিস আলম। 

মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, জেলা-উপজেলা স্তরে একইভাবে কয়েকজন চাঁদাবাজ, চোরাকারবারি, সিন্ডিকেট চালক, মাদক কারবারি ও বাটপার-কালপিট রয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে লংমার্চ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রত্যেক উপজেলায় পাঁচ থেকে দশজন চাঁদাবাজ, চোরাকারবারি, সিন্ডিকেটকারি, মাদক কারবারি, বাটপার- কালপিট আছে - আমরা প্রত্যেক জেলা উপজেলার এসব লোকদের জন্য লংমার্চে নেমেছি।

স্থানীয় মানুষদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তেঁতুলিয়ায় অল্প কয়েকটি মানুষ ‘রক্ত চুষে খাচ্ছে, আর বাকিরা নীরব দর্শক হয়ে ঘরে চুপ করে থাকছেন। তিনি সতর্ক করে দেন, যদি এইভাবে বেহাল অবস্থা চলতে থাকে, তাহলে তেঁতুলিয়ায় ভূমিধস, নদী ভাঙন, বাড়িঘর হারানো ও শিক্ষা-চিকিৎসার হতাশাজনক অবস্থা তৈরি হবে। 

তিনি বলেন, যাদেরকে স্থানীয়রা নেতা বানায় তারা নিজেদের সন্তানদের বিদেশে পাঠান, আর সাধারণ মানুষের সন্তানরা তেঁতুলিয়া থেকেও ভালো শিক্ষার সুযোগ পায় না।

সারজিস আলম আরও বলেন, আপনারা যাদেরকে নেতা বানান, তারা চোর। তারা এই এলাকায় থাকে দু-চার দিন আর বাকি সময় থাকে এসি রুমে।

পথসভায় উপস্থিত ছিলেন- পাঁচ উপজেলার নেতা কর্মীরা। তেঁতুলিয়া অনুষ্ঠান শেষে লংমার্চের দ্বিতীয় পথসভাটি বাংলাবান্ধা ইউনিয়নের সিপাইপাড়া বাজারে অনুষ্ঠিত হওয়া কথা রয়েছে। 

এর আগে, শনিবার দুপুর ১২টা থেকে পঞ্চগড় পৌরসভার চিনিকল মাঠে থেকে শুরু হওয়া এ লংমার্চে ৫ উপজেলার নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এতে মাইক্রোবাস ও পিকআপের বহরও দেখা গেছে।

MMS
আরও পড়ুন