সুরা ইয়াসিনের ৬ শিক্ষা

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৩২ এএম

পবিত্র কোরআনের হৃদপিন্ড সুরা ইয়াসিন। সুরা ইয়াসিন মানুষকে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের আহ্বান জানায়। একইসঙ্গে চিন্তা, উপলব্ধি ও আত্মসমালোচনার শিক্ষা দেয়। আল্লাহর বাণী ও সৃষ্টিজগত, এই দুই মহা নিদর্শনের দিকে তাকিয়ে মানুষ যেন নিজের অবস্থান নতুন করে বুঝতে পারে, সে কথাই স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে এই সুরায়। সুরা ইয়াসিনের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা তুলে ধরা হলো—

১. আল্লাহর বাণী ও উদাসীন মানুষের মনোভাব (আয়াত ১–১২)

সুরা ইয়াসিনের শুরুতেই কোরআনের অবতরণ ও তার উদ্দেশ্যের কথা বলা হয়েছে। আরব সমাজে আগে নবী-রাসুল পাঠানোর ধারাবাহিকতা তেমন ছিল না। তাই আল্লাহ বলেন— ‘যেন আপনি এমন এক জাতিকে সতর্ক করেন, যাদের পূর্বপুরুষদের সতর্ক করা হয়নি, ফলে তারা গাফেল হয়ে আছে।’ (ইয়াসিন, আয়াত : ৬)

এই গাফিলতি বা উদাসীনতা মানুষের হৃদয়ের এক ভয়ংকর রোগ, যা তাকে সত্য গ্রহণ থেকে বিরত রাখে। কোরআনে বলা হয়েছে— আমি তাদের সামনে ও পেছনে প্রাচীর স্থাপন করেছি, আর তাদের চোখ ঢেকে দিয়েছি, ফলে তারা দেখতে পায় না।’ (ইয়াসিন, আয়াত : ৯)

২. ইতিহাস থেকে শিক্ষা নাও (আয়াত, আয়াত : ১৩–৩০)

এরপর সুরায় বর্ণিত হয়েছে একটি জনপদের ঘটনা, যেখানে একসঙ্গে তিনজন রাসুল প্রেরিত হয়েছিলেন। আশ্চর্যের বিষয়, এখানে রাসুলদের নাম বা বক্তব্য নয়, বরং এক সাধারণ মানুষের সাহসী ভূমিকা বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

আল্লাহ বলেন, ‘আমি তাদের কাছে দুইজন রাসুল পাঠালাম, তারা উভয়কেই অস্বীকার করল। এরপর তৃতীয় একজনকে দিয়ে তাদের শক্তিশালী করলাম।’ (ইয়াসিন, আয়াত : ১৪)

বর্ণিত হয়েছে, শহরের দূর প্রান্ত থেকে এক ব্যক্তি দৌড়ে এসে বলল, হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা রাসুলদের অনুসরণ করো।’ (ইয়াসিন, আয়াত : ২০)

 ৩. চারপাশের সৃষ্টিজগতের দিকে তাকাও (আয়াত ৩১–৪৪)

ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিলে অন্তত বর্তমানের নিদর্শনগুলো দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে। বর্ণিত হয়েছে, ‘তাদের জন্য নিদর্শন হলো মৃত ভূমি, যাকে আমি জীবিত করি এবং তা থেকে শস্য উৎপন্ন করি।’ (ইয়াসিন, আয়াত : ৩৩)

আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন, ‘রাতও তাদের জন্য এক নিদর্শন; আমি দিনকে তা থেকে আলাদা করে দিই, তখন তারা অন্ধকারে ঢেকে যায়।’ (ইয়াসিন, আয়াত : ৩৭)

৪. একগুঁয়েমি ও আত্মিক অন্ধত্ব (আয়াত ৪৫–৪৭)

আল্লাহ বারবার সতর্ক করলেও অনেকে উদাসীন থাকে। তাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘যখন তাদের বলা হয়, সামনে ও পেছনের পরিণাম সম্পর্কে সতর্ক হও, যাতে তোমরা দয়া লাভ করো, তখন তারা প্রতিটি নিদর্শন উপেক্ষা করে।’ (ইয়াসিন, আয়াত : ৪৫–৪৬)

৫. কিয়ামতের দিনের পরিণতি (আয়াত ৪৮–৭০)

এই অংশে পুনরুত্থান দিবসের দৃশ্যপট তুলে ধরা হয়েছে। বর্ণিত হয়েছে, ‘এটাই সেই আগুন, যার ব্যাপারে তোমাদের সতর্ক করা হয়েছিল। আজ তাতে প্রবেশ করো, কারণ তোমরা সত্য অস্বীকার করেছিলে।’ (ইয়াসিন, আয়াত : ৬৩–৬৪)

৬. অহংকার : হৃদয়ের আরেক বড় ব্যাধি

সুরার শেষাংশে মানুষের অহংকারের কথা বলা হয়েছে, যা গাফিলতির মতোই তাকে সত্য থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘মানুষ কি দেখে না যে আমি তাকে সৃষ্টি করেছি এক ফোঁটা বীর্য থেকে? অথচ সে প্রকাশ্যেই তর্কে লিপ্ত হয়… বলে, পচে যাওয়া হাড় কে আবার জীবিত করবে?’ (ইয়াসিন, আয়াত : ৭৭–৭৮)

উত্তর দেওয়া হয়েছে— যিনি প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন, তিনিই আবার জীবিত করবেন। তিনি সব সৃষ্টির খবর রাখেন। (ইয়াসিন, আয়াত : ৭৯)

আরও পড়ুন