বাড়ির জন্য কেনা জমির জাকাত দিতে হবে কি?

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২৬, ০৩:২৭ এএম

অনেকে ভবিষ্যতে বাড়ি নির্মাণের উদ্দেশ্যে কম বা বেশি দামে জমি কিনে রাখেন; কিন্তু নানা কারণে সেই জমিতে এখনও বাড়ি নির্মাণ শুরু করা হয়নি। এ অবস্থায় ওই জমির মূল্যের ওপর কি জাকাত দিতে হবে?

উত্তর হচ্ছে না। এক্ষেত্রে জমির ওপর জাকাত দিতে হবে না। কারণ জমিটি ব্যবসার উদ্দেশ্যে কেনা হয়নি। ইসলামি বিধান অনুযায়ী ব্যবসার উদ্দেশ্য ছাড়া অন্য কোনো কারণে জমি ক্রয় করা হলে সেই জমির ওপর জাকাত ফরজ হয় না।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন—

 لَا زَكَاةَ فِي شَيْءٍ مِنَ الْعُرُوضِ إِلَّا مَا كَانَ لِلتِّجَارَةِ، فَمَا كَانَ لِلتِّجَارَةِ فَفِيهِ الزَّكَاةُ

‘স্বর্ণ, রৌপ্য ও নগদ অর্থ ছাড়া অন্য কোনো বস্তুর ওপর জাকাত আসে না, যদি তা ব্যবসার জন্য না হয়। আর ব্যবসার জন্য হলে তার ওপর জাকাত আসবে।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা: ১০৫৬০)

জাকাত ইসলামের একটি ফরজ বিধান এবং ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম। প্রত্যেক স্বাধীন, প্রাপ্তবয়স্ক ও সম্পদশালী মুসলমান নারী-পুরুষের ওপর প্রতি বছর নিজ সম্পদের একটি নির্দিষ্ট অংশ দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করা বাধ্যতামূলক। ইসলামি শরিয়তে নির্ধারিত সীমার বেশি সম্পদ কোনো ব্যক্তির কাছে পূর্ণ এক হিজরি বছর থাকলে তাকে সম্পদশালী ধরা হয়। তখন তার বর্ধনশীল সম্পদের ২.৫ শতাংশ বা ১/৪০ অংশ জাকাত হিসেবে দিতে হয়।

পবিত্র কুরআনে ‘জাকাত’ শব্দটি ৩২ বার উল্লেখ হয়েছে। নামাজের পর জাকাতের কথাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বসহকারে বলা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَ اَقِیۡمُوا الصَّلٰوۃَ وَ اٰتُوا الزَّكٰوۃَ ؕ وَ مَا تُقَدِّمُوۡا لِاَنۡفُسِكُمۡ مِّنۡ خَیۡرٍ تَجِدُوۡهُ عِنۡدَ اللّٰهِ ؕ اِنَّ اللّٰهَ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ بَصِیۡرٌ

‘তোমরা সালাত কায়েম কর, জাকাত দাও এবং নিজেদের জন্য যে কল্যাণ অগ্রিম পাঠাবে, তা আল্লাহর কাছেই পাবে। তোমরা যা করছ নিশ্চয়ই আল্লাহ তা দেখছেন।’

(সুরা বাকারা: ১১০)

কোনো ব্যক্তি যদি পূর্ণ এক বছর নেসাব পরিমাণ বর্ধনশীল সম্পদের মালিক থাকে—যেমন ৭ তোলা বা ৮৭.৪৫ গ্রাম স্বর্ণ, অথবা সাড়ে ৫২ তোলা বা ৬১২.৩৫ গ্রাম রৌপ্য, কিংবা ৮৭.৪৫ গ্রাম স্বর্ণের সমমূল্যের নগদ অর্থ—তাহলে ইসলামের দৃষ্টিতে তিনি সম্পদশালী হিসেবে বিবেচিত হবেন। তার ওপর জাকাত ওয়াজিব হবে।

নগদ অর্থ, স্বর্ণ-রৌপ্য বা ব্যবসার সম্পদ যেদিন নেসাবের পর্যায়ে পৌঁছায়, সেদিন থেকেই জাকাতের বছর গণনা শুরু হয়। এক বছর পূর্ণ হলে ওই ব্যক্তির মালিকানায় যত বর্ধনশীল সম্পদ থাকবে—যেমন নগদ অর্থ, ব্যবসার মাল, স্বর্ণ বা রৌপ্য—তার ২.৫ শতাংশ বা ৪০ ভাগের ১ ভাগ জাকাত হিসেবে আদায় করতে হবে।

হিজরি সন অনুযায়ী বছরে একবার জাকাতের হিসাব করা বাধ্যতামূলক। আমাদের দেশে অনেকেই রমজান মাসকে জাকাত হিসাবের সময় হিসেবে নির্ধারণ করেন। হিসাব করার পর সঙ্গে সঙ্গে পুরো জাকাত আদায় করা জরুরি নয়; বরং বছরের বিভিন্ন সময়ে ধীরে ধীরে তা পরিশোধ করা যেতে পারে।

HN
আরও পড়ুন