সুরা বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াতকে ‘আয়াতুল কুরসি’ বলা হয়। পবিত্র কোরআনের সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ আয়াত এটি। কোরআনের তিন নম্বর পারার প্রথম পৃষ্ঠায় অবস্থিত। আয়াত অর্থ চিহ্ন বা নিদর্শন। কুরসি শব্দের অর্থ চেয়ার বা আসন। আয়াতে ব্যবহৃত কুরসি শব্দ থেকে আয়াতটির নামকরণ করা হয়েছে। আয়াতটি অধিক ফজিলতপূর্ণ। পবিত্র কুরআনের শ্রেষ্ঠতম আয়াত হলো ‘আয়াতুল কুরসি’।
হাদিসে এ আয়াতের অনেক ফজিলত বর্ণিত করা হয়েছে। রাসুল (সা.) উবাই ইবনে কাব রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, কোরআনের মধ্যে কোন আয়াতটি সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ? উবাই ইবনে কাব বললেন, তা হচ্ছে- ‘আয়াতুল কুরসি’। রাসুল (সা.) তা সমর্থন করে বললেন, হে আবুল মুনযির! জ্ঞান তোমার জন্য সহজ হোক। (মুসলিম, হাদিস, ৮১০)
যেসব গুণ বর্ণনা করা হয়েছে
আয়াতুল কুরসিতে মহান আল্লাহ জাল্লা-শানুহুর একক অস্তিত্ব, তাওহীদ ও গুণাবলীর বর্ণনা এক অত্যাশ্চর্য ও অনুপম ভঙ্গিতে দেওয়া হয়েছে। যাতে আল্লাহর অস্তিত্ববান হওয়া, জীবিত হওয়া, শ্রবণকারী হওয়া, দর্শক হওয়া, বাকশক্তিসম্পন্ন হওয়া, তার সত্তার অপরিহার্যতা, তার অসীম-অনন্তকাল পর্যন্ত থাকা, সমগ্র বিশ্বের স্রষ্টা ও উদ্ভাবক হওয়া, যাবতীয় ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার প্রভাব থেকে মুক্ত হওয়া, সমগ্র বিশ্বের একচ্ছত্র অধিপতি হওয়ার বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে।
এছাড়া আল্লাহ তায়ালার এমন শ্রেষ্ঠত্ব ও মহত্ত্বের অধিকারী হওয়ার কথা তুলে ধরা হয়েছে, যাতে তার অনুমতি ছাড়া তার সামনে কেউ কোনো কথা বলতে পারে না। বলা হয়েছে, তিনি এমন পরিপূর্ণ ক্ষমতার অধিকারী যাতে সমগ্র বিশ্ব ও তার যাবতীয় বস্তুনিচয়কে সৃষ্টি করা এবং সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ এবং তাদের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গিয়ে তাকে কোনো ক্লান্তি বা পরিশ্রান্তির সম্মুখীন হতে হয় না এবং এমন তিনি ব্যাপক জ্ঞানের অধিকারী, যাতে কোনো প্রকাশ্য কিংবা গোপন বস্তু কিংবা কোনো অণু-পরমাণুর বিন্দু-বিসর্গও যাতে বাদ পড়তে পারে না।
আল্লামা ইবনে কাসীর বলেন, আয়াতুল কুরসিতে দশটি বাক্য রয়েছে। প্রতিটি বাক্যের সঙ্গেই গুরুত্বপূর্ণ কিছু শিক্ষা রয়েছে।
হাদিসে আয়াতুল কুরসি পাঠের ফজিলত
* মৃত্যুর পর জান্নাত
আবু উমামা আল বাহিলি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, তার জান্নাতে প্রবেশে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা থাকবে না। (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ৯৯২৮)
* কোরআনের সবচেয়ে সম্মানিত আয়াত
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, প্রতিটি জিনিসের একটি চূড়া থাকে। কোরআনের চূড়া সুরা বাকারা। তাতে এমন একটি আয়াত আছে, যা কোরআনের অন্য আয়াতের ‘নেতা’। সেটা হলো- আয়াতুল কুরসি। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৩১১৯)
* আল্লাহর পক্ষ থেকে নিরাপত্তা
আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত এক দীর্ঘ হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি বিছানায় যাওয়ার সময় আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, আল্লাহর পক্ষ থেকে আপনার জন্য একজন প্রহরী থাকবে। আর সকাল পর্যন্ত কোনো শয়তান আপনার কাছে আসবে না। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৩১১)