পর্দা ইসলামের একটি ফরজ বিধান। নারীদের জন্য যেমন পর্দা জরুরি, পুরুষদের জন্যও পর্দা জরুরি। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে পুরুষদের নির্দেশ দিয়েছেন নিজেদের দৃষ্টি সংযত করতে এবং চরিত্রের হেফাজত করতে আর নারীদের নির্দেশ দিয়েছেন দৃষ্টি সংযত করার পাশাপাশি নিজেদের শারীরিক সৌন্দর্য ঢেকে রাখতে।
তবে কোনো পুরুষ যদি কোনো নারীকে বিয়ের করার ইচ্ছা করে, তাহলে ওই পুরুষের জন্য কনেকে দেখে নেওয়া জায়েজ এবং সুন্নতও বটে। কনেও চাইলে বরকে দেখে নিতে পারে।
নবিজি (সা.) তার সাহাবিদের উৎসাহ দিতেন বিয়ের আগে কনেকে দেখে নিতে। জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসুল রাসুল (সা.) বলেন, আপনাদের কেউ যখন কোনো নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেবেন, তখন সম্ভব হলে তার এমন কিছু বৈশিষ্ট্য দেখে নেবেন, যা আপনাকে বিয়েতে আগ্রহী করে তোলে। (সুনানে আবু দাউদ: ২০৮২)
মুগিরা বিন শোবা (রা.) বলেন, আমি এক নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দিলাম। এটা শুনে রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি তাকে দেখেছেন? আমি বললাম, না, দেখিনি। তখন তিনি বললেন, তাকে দেখে নিন। আপনার এই দেখা আপনাদের দাম্পত্য জীবনে প্রণয়-ভালোবাসা গভীর হওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। (সুনানে তিরমিজি: ১০৮৭)
হবু বর-কনের দেখা হলে তাদের জন্য একে অন্যের সঙ্গে কথা বলা জায়েজ, তবে একে অন্যকে স্পর্শ করা নাজায়েজ।
আমাদের দেশে কনে দেখতে গিয়ে টাকা বা অন্য কিছু উপহার দেওয়ার প্রচলন আছে- এটা জায়েজ। হবু বর-কনে চাইলে পরস্পরকে উপহার দিতে পারে।
কনে দেখার বৈধতা শুধুমাত্র বরের জন্য। অর্থাৎ যে বিয়ে করবে তার জন্য। বরের বাবা, দাদা, ভাই, বন্ধু-বান্ধব বা অন্যান্য গায়রে মাহরাম পুরুষরা কনেকে দেখতে পারবে না। এটি ইসলামে নাজায়েজ কাজ।
