এল নিনোর পূর্বাভাস জাতিসংঘের: ভাঙতে পারে অতীতের সব রেকর্ড

আপডেট : ০৩ জুন ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম

বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এমনিতেই তাপমাত্রা আকাশছোঁয়া। এর মধ্যে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বিশ্বের তাপমাত্রা আরও বাড়ার আশঙ্কাজনক পূর্বাভাস দিয়েছে জাতিসংঘ। আবহাওয়া ব্যবস্থার প্রাকৃতিক বিন্যাস ‘এল নিনো’র কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে বিশ্ববাসীকে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, ২০২৬ সালের বাকি সময়ে এই এল নিনো আরও শক্তিশালী রূপ নিতে পারে, যার ফলে পৃথিবীর বেশির ভাগ অঞ্চলে চরম আবহাওয়া দেখা দেবে। বিভিন্ন দেশের আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, এটি ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী বা একটি ‘সুপার এল নিনো’ হতে যাচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের পানি এখন অনেক বেশি উষ্ণ। বিশেষ করে দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলে অত্যন্ত গরম পানি দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাজ্যের মেট অফিসের প্রধান অধ্যাপক অ্যাডাম স্কাইফ নিশ্চিত করেছেন যে, এবারের এল নিনো অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে।

বিজ্ঞানীদের এই আশঙ্কার মূল কারণ লুকিয়ে আছে সমুদ্রের গভীরে। স্যাটেলাইট ও মহাসাগরীয় বুয়ার তথ্য অনুযায়ী, প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে শত শত মিটার গভীরে গরম পানির একটি বিশাল ঢেউ পূর্ব দিকে এগোচ্ছে, যেখানে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি। মার্কিন বিজ্ঞান সংস্থা নোয়ার বিজ্ঞানী মিশেল ল্যাহ্যুরেক্স একে অন্যতম শক্তিশালী এল নিনো হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, এল নিনো পরিস্থিতি জলবায়ু পরিবর্তনের এই উত্তপ্ত বিশ্বে আগুনের ওপর ঘি ঢালার মতো কাজ করবে।

একটি শক্তিশালী এল নিনোর কারণে সাধারণত দক্ষিণ আমেরিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ায় তীব্র গরম, খরা ও দাবানলের ঝুঁকি বাড়ে। এটি ভারতের মৌসুমি বায়ুকে দুর্বল করতে পারে এবং আফ্রিকায় খরা তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, ভারী বৃষ্টির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে বন্যার ঝুঁকি বাড়বে। অতীতে এল নিনোর কারণে বিশ্বজুড়ে ফসলহানি ও বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে শত শত বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছিল।

আমেরিকার বার্কলে আর্থ গ্রুপের জলবায়ু বিজ্ঞানী জেকে হাউসফাদার বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী ২০২৭ সালটি বিশ্বের ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ বছর হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। মানুষের তৈরি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবী এখন এমনিতেই উত্তপ্ত, যার ওপর এল নিনোর এই আগমন পরিস্থিতিকে আরও বিধ্বংসী করে তুলবে। সূত্র: বিবিসি

SN
আরও পড়ুন