প্রথমবারের মতো এআই দিয়ে তৈরি হলো ‘সুপার ভ্যাকসিন’

আপডেট : ০৫ জুন ২০২৬, ০৭:০২ পিএম

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে এমন এক নতুন ধরনের ভ্যাকসিন তৈরি করেছেন যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা, যা একসঙ্গে বহু ধরনের ভাইরাসের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে পারে এবং ভবিষ্যতের মহামারী প্রতিরোধেও ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

গবেষকদের দাবি, এটিই প্রথমবার যখন কোনো ভ্যাকসিনের মূল উপাদান সম্পূর্ণভাবে এআই দ্বারা নকশা করা হয়েছে এবং পরে তা মানুষের শরীরে পরীক্ষাও করা হয়েছে।

এই ভ্যাকসিনটি বিশেষভাবে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে এটি করোনাভাইরাস পরিবারের সব ধরনের ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে কোভিডের বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্ট এবং এমন কিছু প্রাণীবাহিত ভাইরাস, যেগুলো ভবিষ্যতে মানুষের মধ্যে নতুন মহামারী তৈরি করতে পারে।

গবেষকরা বলছেন, ভ্যাকসিনের মূল কাজ হলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ভাইরাস চিহ্নিত করতে শেখানো। কিন্তু অনেক ভাইরাস সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের পরিবর্তন করে ফেলে, ফলে প্রচলিত ভ্যাকসিন দ্রুত অকার্যকর হয়ে পড়ে।

কেমব্রিজের অধ্যাপক জনাথন হিনি বলেন, বর্তমানে বিজ্ঞানীরা প্রায় সব সময়ই ভাইরাসের পেছনে দৌড়াচ্ছেন। কিন্তু নতুন এই প্রযুক্তির লক্ষ্য হলো সেই অবস্থাকে উল্টে দেওয়া, অর্থাৎ ভাইরাসের আগেই প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করা।

তিনি জানান, এআই বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন করোনাভাইরাসের জিনগত তথ্য থেকে এমন একটি 'সুপার অ্যান্টিজেন' তৈরি করা হয়েছে, যা শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে প্রশিক্ষণ দিয়ে পুরো ভাইরাস পরিবারকে চিনে নেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করতে পারে।

প্রাথমিকভাবে ৩৯ জন মানুষের ওপর করা ট্রায়ালে এর নিরাপত্তা পরীক্ষা করা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে প্রায় ২০০ জনের ওপর আরও বিস্তারিত পরীক্ষা চলছে, যেখানে এর কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হবে।

গবেষণায় দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত ইমিউন সিস্টেমে এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত হলেও, বিজ্ঞানীদের মধ্যে এটি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি সফল হলে ভবিষ্যতে ফ্লু, বার্ড ফ্লু এমনকি ইবোলা ভাইরাসের মতো রোগের ক্ষেত্রেও দীর্ঘস্থায়ী ও বিস্তৃত সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এআই নির্ভর এই পদ্ধতি ভ্যাকসিন গবেষণায় এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা ভবিষ্যতের মহামারী মোকাবিলায় বিশ্বকে আরও প্রস্তুত করে তুলতে পারে। সূত্র: বিবিসি

AS
আরও পড়ুন