টিম কুকের বিদায়, অ্যাপলের নতুন সিইও জন টার্নাস

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৪৩ পিএম

প্রায় ১৫ বছর অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর পদ ছাড়তে যাচ্ছেন টিম কুক। আগামী ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তার স্থলাভিষিক্ত হবেন জন টার্নাস। তবে অ্যাপল থেকে পুরোপুরি সরে যাচ্ছেন না কুক। সিইওর দায়িত্ব ছাড়ার পর তিনি প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী চেয়ারম্যানের (Executive Chairman) দায়িত্ব নেবেন এবং অ্যাপলের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে যুক্ত থাকবেন।

২০১১ সালের আগস্টে অ্যাপলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও তৎকালীন সিইও স্টিভ জবসের উত্তরসূরি হিসেবে প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নেতৃত্বে আসেন কুক। জবসের মৃত্যুর আগে থেকেই অ্যাপলের পরিচালন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিলেন তিনি। পরে সিইও হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দেন।

কুকের নেতৃত্বে অ্যাপল শুধু আইফোননির্ভর প্রতিষ্ঠান হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকেনি। প্রতিষ্ঠানটি পণ্যভিত্তিক ব্যবসার পাশাপাশি বিভিন্ন সেবা খাতেও ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে। আইফোন, ম্যাক, আইপ্যাড, অ্যাপল ওয়াচ ও এয়ারপডসের মতো পণ্যের পাশাপাশি অ্যাপল মিউজিক, অ্যাপল টিভি প্লাস, আইক্লাউডসহ বিভিন্ন সেবা প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক পরিধি বাড়িয়েছে।

কুকের সময়ে অ্যাপলের পণ্য ব্যবস্থাও আরও বিস্তৃত ও পরস্পরনির্ভর হয়েছে। একটি ডিভাইসের সঙ্গে অন্য ডিভাইস ও সেবা সহজে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের জন্য একটি সমন্বিত প্রযুক্তি-পরিবেশ গড়ে তুলেছে। এর ফলে অ্যাপলের পণ্য ও সেবার প্রতি গ্রাহকদের নির্ভরতা আরও বেড়েছে।

তার নেতৃত্বে অ্যাপলের বাজারমূল্যও অভূতপূর্ব পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানিগুলোর একটি হিসেবে অ্যাপলের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। পণ্য ও সেবার বিস্তার, আয় বৃদ্ধি এবং বাজারমূল্যের ব্যাপক সম্প্রসারণ-সব মিলিয়ে কুকের ১৫ বছরের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় হয়ে উঠেছে।

এবার সেই নেতৃত্বে পরিবর্তন আসছে। কুকের উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন জন টার্নাস। তিনি অ্যাপলের হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক প্রধান। দীর্ঘদিন ধরে অ্যাপলের পণ্য উন্নয়ন ও হার্ডওয়্যার প্রকৌশল কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকা টার্নাস প্রতিষ্ঠানটির প্রযুক্তিগত নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

টার্নাসের হাতে সিইওর দায়িত্ব তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে অ্যাপলের নেতৃত্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে কুক নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকায় নেতৃত্বের এই পরিবর্তন পুরোপুরি বিচ্ছিন্নতার নয়। বরং অভিজ্ঞ নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই নতুন সিইওর হাতে দৈনন্দিন নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে টার্নাস আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাপলের সিইওর দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। একই দিন থেকে কুক নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে নতুন ভূমিকায় কাজ শুরু করবেন।

স্টিভ জবসের পর অ্যাপলের নেতৃত্বে আসা কুককে ঘিরে শুরুতে ছিল নানা প্রশ্ন। কিন্তু দীর্ঘ ১৫ বছরের মেয়াদে তিনি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি অ্যাপলকে বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর একটি হিসেবে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছেন।

এখন তার উত্তরসূরি টার্নাসের সামনে রয়েছে সেই অবস্থান ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে প্রযুক্তি খাতে দ্রুত পরিবর্তন, নতুন পণ্য ও সেবার বিকাশ এবং অ্যাপলের বিশাল বৈশ্বিক ব্যবসাকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্বও তার কাঁধে পড়ছে।

কুকের নতুন দায়িত্বে যাওয়ার মধ্য দিয়ে অ্যাপলের নেতৃত্বে একটি যুগের অবসান ঘটছে। আর টার্নাসের সিইও হওয়া দিয়ে শুরু হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির নতুন অধ্যায়।

এটিটিআর
আরও পড়ুন