চিকিৎসা বিজ্ঞানে নতুন চমক

খাওয়ার উপযোগী অভিনব ‘কাগজের ব্যাটারি’ আবিষ্কার

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২২ পিএম

চিকিৎসা বিজ্ঞানে হয়তো আপনি ক্যাপসুল বা ট্যাবলেটের মতো ওষুধ গিলে খাওয়ার কথা শুনেছেন। কিন্তু কখনো কি শুনেছেন পেটের রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার জন্য রোগীদের আস্ত ব্যাটারি বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস গিলে খেতে হয়?

হ্যাঁ, আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে পাকস্থলী বা পরিপাকতন্ত্রের ভেতরের রক্তপাত পরীক্ষা করা, সময়মতো ওষুধ পৌঁছে দেওয়া কিংবা পেটের ভেতরের অঙ্গ সক্রিয় রাখতে ছোট ছোট ইলেকট্রনিক যন্ত্র বা সেন্সর ব্যবহার করা হয়। তবে এতদিন এই যন্ত্রগুলো চালানোর জন্য যে ব্যাটারি ব্যবহার করা হতো, সেগুলো হতো বেশ বড় এবং শক্ত উপাদান দিয়ে তৈরি। চিকিৎসা শেষে সেগুলো বের করতে অনেক সময় অপারেশনেরও প্রয়োজন হতো।

এবার এই সমস্যার সমাধানে চমৎকার এক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন বিজ্ঞানীরা। তারা এমন এক ‘কাগজের ব্যাটারি’ তৈরি করেছেন, যা সাধারণ ওষুধ বা ক্যাপসুলের মতো সহজে গিলে ফেলা যাবে। এটি পেটের ভেতরে গিয়ে চিকিৎসা যন্ত্রে বিদ্যুৎ জোগাবে এবং কাজ শেষ হলে কোনো বিষাক্ত বর্জ্য না রেখে পেটের অ্যাসিডেই সম্পূর্ণ গলে মিশে যাবে!

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিজ্ঞান বিষয়ক সাময়িকী 'নেচার কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং'-এ এই গবেষণার কথা প্রকাশিত হয়েছে। বিজ্ঞানীরা প্রথম দফায় শূকরের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখেছেন, ব্যাটারিটি পেটের ভেতরে টানা তিন দিন সফলভাবে কাজ করেছে।

কীভাবে কাজ করে এই আশ্চর্য ব্যাটারি?

সাধারণ ব্যাটারির ভেতর রাসায়নিক তরল থাকে, যা শরীরে ছড়িয়ে পড়লে ভয়াবহ ক্ষতি হতে পারে। কিন্তু নতুন এই ব্যাটারিটি তৈরি করা হয়েছে পেপারের মতো পাতলা পচনশীল উপাদান এবং সেলুলোজ দিয়ে। আর ব্যাটারিটি যেন পেটের অ্যাসিডে খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে না যায়, সেজন্য এর ওপর দেওয়া হয়েছে খাঁটি মোমের প্রলেপ।

বিজ্ঞানীরা এই ব্যাটারির দুটি ভিন্ন সাইজ তৈরি করেছেন:

ছোট ব্যাটারি: এটি সাধারণ ক্যাপসুলের ভেতরেই এঁটে যায়। এটি দিয়ে পেটের ভেতরের ছোট সেন্সর চালু রাখা সম্ভব, যা রোগী ওষুধ খেয়েছে কি না সেই তথ্য বাইরে পাঠাতে পারে।

বড় ব্যাটারি: এটি দিয়ে পেটের পেশিতে হালকা বৈদ্যুতিক উদ্দীপনা সৃষ্টি করা যায়, যা মানুষের খিদে বাড়ানোর হরমোন তৈরিতে সাহায্য করে।

পরীক্ষায় দেখা গেছে, তিন দিন পেটের ভেতর বিদ্যুৎ জোগানোর পর ব্যাটারিটি পেটের অ্যাসিডে নিজে থেকেই দ্রবীভূত হয়ে গেছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ব্যাটারির এই প্রযুক্তিকে আরও উন্নত করার কাজ চলছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে মানুষের শরীরে এর পরীক্ষামূলক ব্যবহার (ট্রায়াল) শুরু হতে পারে।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত