গত কয়েক মাসে বাংলাদেশের স্বর্ণের বাজারে দামের বেশ উত্থান-পতন লক্ষ্য করা গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বাড়লে বা কমলে তার প্রভাব পড়ে দেশের বাজারে। আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের দাম অনেক সময় বাড়তি থাকলে দেখা যায়, সোনার দাম হয় নিম্নমুখী। আবার এমনও দেখা যায়, ডলারের দাম নিম্নমুখী হলে সোনার দাম হয় ঊর্ধ্বমুখী। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের দাম বাড়া বা কমার প্রাব পড়ে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের স্থানীয় বাজারে।
অবশ্য আন্তর্জাতিক বাজারে যখন টাকার মান কমে যায়, তখনও স্থানীয় বাজারে সোনার দাম বেড়ে যায়। এছাড়া, শীত মৌসুমে দেশে বিয়েসহ বিভিন্ন পারিবারিক অনুষ্ঠান বেশি হওয়ায় সোনার চাহিদা বেড়ে যায়। পূজা, ঈদসহ বিভিন্ন পার্বণেও চাহিদা বেশি থাকায় সোনার দাম বাড়ে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) সহ-সভাপতি সমিত ঘোষ (অপু) দৈনিক খবর সংযোগকে বলেন, সায়েম সোবহান আনভীর বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণের পর জুয়েলারি শিল্পে বিপ্লব ঘটেছে। এটি এখন একটি ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে। আর দাম উঠা-নামার পিছনে বিশ্ববাজারের উপর নির্ভর করতে হয়। বাজারে ডলারের দাম যখন পড়ে যায়, তখন সোনার দাম বাড়তে থাকে। কারণ, বিশ্ব বাজারে ডলারের মতো সোনাও একটি কারেন্সি বা মুদ্রা। বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সোনা ও ডলার দুটোই কিনে রাখে এবং ব্যবসা করে।
যখনই সঙ্কট, ডলারের মূল্য, তেলের দাম, মুদ্রাস্ফীতি, মূল্যস্ফীতি, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্য বাড়িয়ে দেয় তখন বাংলাদেশেও এর দাম বাড়ে। জুয়েলারের পণ্য হলো গয়না, যার কাঁচামাল বুলিয়ন-বিক্রেতাদের কাছ থেকে কেনা হয়। তারা আন্তর্জাতিক বাজারের রেট অনুসরণ করেন।
কিন্তু বাংলাদেশের বাজারে যে স্বর্ণ বিক্রি হয় তার বেশিরভাগই চোরাচালান হয়ে আসা বলে অভিযোগ করা হয়। এসব স্বর্ণ থেকে সরকার কোনো অর্থ পায় না। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আসলে কিভাবে নির্ধারণ হয় তা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তোলেন।
তবে কোনো-কোনো ব্যবসায়ীর দাবি, ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত তেল এবং স্বর্ণ একে অপরের সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। নানা দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ডলার যেমন থাকে, তেমনি স্বর্ণও গচ্ছিত থাকে।
স্বর্ণ একটি পণ্য কিন্তু মূল্য পরিশোধেও এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। তেলের দাম বাড়লেও স্বর্ণের দাম বাড়ে। আবার উল্টোটাও হয়। মুদ্রায় অস্থিরতা থাকলে প্রায়শই অপরিশোধিত তেলের মূল্য স্বর্ণে পরিশোধ করা হয়।
ক্রুড অয়েল উৎপাদনকারী দেশগুলো একটি চায় না, যখন তারা সামনে ডলারের মূল্য পড়ে যাবে কি না সে নিয়ে শঙ্কিত বোধ করে। তেলের দাম বাড়লে দ্রব্য মূল্য বাড়ে। যার ফলে শঙ্কিত হয়ে স্বর্ণ মজুদ রাখার প্রবণতা বাড়ে, তখন দামও বাড়ে।
দেশে সোনার খনি নেই, আবার আমদানি করার অনুমতিও নেই। অথচ দেশজুড়ে দিব্যি গড়ে উঠেছে ২০ হাজারেরও বেশি সোনার দোকান। এসব দোকানে নিয়মিতভাবে গয়না তৈরি হচ্ছে, ভাঙাও হচ্ছে; কাজ করে যাচ্ছেন কারিগরসহ দেড় লাখেরও বেশি শ্রমিক। রাজধানী থেকে মফস্বল শহর সবখানে জুয়েলারি দোকানের ভীষণ কদর। দেশে সোনা আমদানির বৈধতা না থাকায় বাধ্য হয়েই চোরাচালানকে আঁকড়ে ধরে আছেন এ খাতের ব্যবসায়ীরা।
সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী দেশের বাজারে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট সোনার দাম ছিল ১ লাখ ১০ হাজার ২১৩ টাকা। এ ছাড়া প্রতি ভরি ২১ ক্যারেট মানের সোনা ১ লাখ ৫ হাজার ১৯৮ টাকা, ১৮ ক্যারেট মানের সোনা ৯০ হাজার ১৭৪ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ছিল ৭৪ হাজার ৯৮৯ টাকা। সে হিসাবে মূল্য সমন্বয়ের কারণে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটে ৭৩৫ টাকা, ২১ ক্যারেটে ৭০০ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ৫৯৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনায় ৫০০ টাকা বেড়েছে।

