২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর পুরস্কার ঘিরে ফুটবল বিশ্বে উত্তেজনা তুঙ্গে। লন্ডনের জমকালো অনুষ্ঠানে বিজয়ীর নাম ঘোষণার আর ২৪ ঘণ্টারও কম সময় বাকি থাকতে আলোচনায় রয়েছেন স্পেনের লামিনে ইয়ামাল, ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন।
২০২৫-২৬ মৌসুমের সেরা ফুটবলারকে দেওয়া হবে ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর। এবারের দৌড়ে ইয়ামাল, এমবাপ্পে ও কেইনকে ঘিরেই সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে। ইয়ামাল ও এমবাপ্পে প্রকাশ্যে নিজেদের পুরস্কার জয়ের সম্ভাবনার কথা বলেছেন। অন্যদিকে, নিজের পক্ষে প্রচার চালানোর ক্ষেত্রে তুলনামূলক নীরব রয়েছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক কেইন।
লন্ডনের প্যালাডিয়ামে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সামনে রেখে সম্ভাব্য বিজয়ী নিয়ে নানা পূর্বাভাস আসছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পূর্বাভাসে এগিয়ে ইয়ামাল
ফ্রান্সের তথ্য বিশ্লেষণ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অ্যাভিসিয়ার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন বার্সেলোনার তরুণ উইঙ্গার লামিনে ইয়ামাল। অ্যাভিসিয়ার বিশ্লেষণে ইয়ামালের জয়ের সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ২৩ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বায়ার্ন মিউনিখের হ্যারি কেইনের সম্ভাবনা ২১ শতাংশ। অন্যদিকে, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ২০২৪ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী রদ্রির সম্ভাবনা সমান ১৯ শতাংশ করে।
তালিকার শীর্ষ পাঁচে রয়েছেন- আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লিওনেল মেসিও। রেকর্ড নবমবারের মতো এই পুরস্কার জয়ের সম্ভাবনা তার ১৮ শতাংশ বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। অ্যাভিসিয়ার দাবি, ২০২৫ সালের ব্যালন ডি’অরের শীর্ষ পাঁচ প্রার্থীকেও তারা সঠিকভাবে শনাক্ত করতে পেরেছিল। ওই বছর পুরস্কার জিতেছিলেন উসমান দেম্বেলে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পূর্বাভাসের সঙ্গে বাজির বাজারের হিসাব মিলছে না। বুকমেকারদের হিসাবে কেইনই এবারের পুরস্কার জয়ের স্পষ্ট দাবিদার। তাদের হিসাবে ইংলিশ স্ট্রাইকারের জয়ের সম্ভাবনা প্রায় ৭০ শতাংশ।
খেলোয়াড় ও বিশেষজ্ঞদের পছন্দ কে?
ব্যালন ডি’অর নিয়ে ফুটবলবিশ্বের সাবেক ও বর্তমান তারকাদের মতও বিভক্ত। অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের কোচ দিয়েগো সিমিওনে মনে করেন, তার স্বদেশি মেসির হাতেই ওঠা উচিত এবারের পুরস্কার। মেসির বয়স ও পারফরম্যান্সের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বকাপের পরও মেসি যে মানের ফুটবল খেলেছেন, তাতে তার যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। সাবেক ইতালীয় ফুটবলার মার্কো মাতেরাজ্জিও মেসির পক্ষে মত দিয়েছেন। তার মতে, ইয়ামালের প্রতি যথাযথ সম্মান রেখেও বলা যায়, ৩৮ বছর বয়সে মেসি এখনো অন্যদের চেয়ে আলাদা পর্যায়ে রয়েছেন।
অন্যদিকে, ব্যালন ডি’অরের সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহাম সমর্থন দিয়েছেন স্বদেশি অধিনায়ক কেইনকে। তার ভাষ্য- কেইন পুরস্কারটির জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছেন এবং তিনি একজন সৎ ও পরিশ্রমী মানুষ। তাই তার জয়ের সম্ভাবনা অবশ্যই রয়েছে।
বার্সেলোনায় ইয়ামালের সতীর্থ ইংল্যান্ডের অ্যান্থনি গর্ডন আবার তরুণ স্প্যানিশ তারকার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার মতে, এত অল্প বয়সে ইয়ামাল যা অর্জন করেছেন এবং যেভাবে খেলছেন, তা অসাধারণ। এদিকে, রিয়াল মাদ্রিদে এমবাপ্পের সতীর্থ অরেলিয়েন চুয়ামেনি ফরাসি ফরোয়ার্ডকে সমর্থন জানিয়েছেন। তার মতে, এমবাপ্পে অসাধারণ একটি মৌসুম কাটিয়েছেন।
পরিসংখ্যানে এগিয়ে এমবাপ্পে, শিরোপায় ইয়ামাল
ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান বিবেচনায় এমবাপ্পে এবারের পুরস্কারের শক্তিশালী দাবিদার। লা লিগায় ২৫ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন তিনি। চ্যাম্পিয়নস লিগেও ১৫ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার অবস্থানে রয়েছেন ফরাসি তারকা। বিশ্বকাপেও গোল্ডেন বুট জিতেছেন এমবাপ্পে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে তার গোলসংখ্যা ১২, যা নতুন রেকর্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
অন্যদিকে, গত মৌসুমে ৭৩ গোল করেছেন কেইন। ২০১১-১২ মৌসুমে মেসির ৮২ গোলের পর কোনো খেলোয়াড়ের এক মৌসুমে এত গোল করার নজির নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি দলীয় শিরোপার হিসাবও গুরুত্বপূর্ণ। এমবাপ্পে ক্লাব বা জাতীয় দলের হয়ে কোনো শিরোপা জিততে পারেননি। কেইন বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে বুন্দেসলিগা জিতলেও ইংল্যান্ডকে নিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন। বড় কোনো আন্তর্জাতিক শিরোপা না থাকায় তাদের দাবির ক্ষেত্রে এটি দুর্বলতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এ জায়গাতেই এগিয়ে রয়েছেন ইয়ামাল। ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানে খুব উজ্জ্বল মৌসুম না কাটালেও চোটের কারণে যার পারফরম্যান্স ব্যাহত হয়েছে, সেই তরুণ তারকা স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ এবং বার্সেলোনার হয়ে লা লিগা জিতেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শিরোপা জয়ের অভিজ্ঞতা কি এগিয়ে রাখবে ইয়ামালকে?
সাম্প্রতিক ইতিহাস বলছে, ব্যালন ডি’অর জয়ের ক্ষেত্রে বড় কোনো শিরোপা জেতা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গত ১৯ বিজয়ীর মধ্যে মাত্র চারজন পুরস্কার পাওয়ার সংশ্লিষ্ট বছরে চ্যাম্পিয়নস লিগ, বিশ্বকাপ, ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ কিংবা কোপা আমেরিকার কোনোটি জিততে পারেননি। এই হিসাব ইয়ামালের সম্ভাবনাকে শক্তিশালী করতে পারে। তিনি ব্যালন ডি’অর জিতলে ইতিহাসের সবচেয়ে কম বয়সী বিজয়ী হবেন। বর্তমানে ১৯৯৭ সালে ২১ বছর বয়সে পুরস্কারজয়ী ব্রাজিলের রোনালদোর রেকর্ড ভাঙার লক্ষ্য তার সামনে।
তবে শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স, দলীয় সাফল্য ও ভোটারদের মূল্যায়ন সবকিছু মিলিয়েই নির্ধারিত হবে এবারের বিজয়ী। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার হিসাবে ইয়ামাল এগিয়ে থাকলেও বুকমেকারদের পছন্দ কেইন, আর ব্যক্তিগত গোলের পরিসংখ্যানে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন এমবাপ্পে। ফলে ব্যালন ডি’অর ২০২৬-এর লড়াইয়ে কে শেষ হাসি হাসবেন, তা নিয়ে উত্তেজনা থেকেই যাচ্ছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
১০০ গোলের মাইলফলকের চেয়েও দলের জয় গুরুত্বপূর্ণ: এমবাপে
চবি ক্যাম্পাসে ড্রোন ওড়ানোয় নিষেধাজ্ঞা
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লুলার জয় নিয়ে বিশ্বনেতাদের প্রতিক্রিয়া
হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্রের সুড়ঙ্গ ও উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে হামলার দাবি সৌদি জোটের
নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কে এই গাদি আইজেনকট?