পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন নিয়ে বাধা ও উত্তেজনার পর মৃত্যুর প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর তার নিজ বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত ২টার পর পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতালিয়া গ্রামে তাকে দাফন করা হয়।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, প্রথমবার কবর খোঁড়ার পর স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা সেটি ভরাট করে দেন। পরে রাতে মানিক পশারীর মেয়ে ও দুই বোন গ্রাম পুলিশের সহায়তায় মোবাইল ফোনের আলোয় আবার কবর খুঁড়ে দাফনের ব্যবস্থা করেন।
মানিক পশারী মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী ছিলেন।
মানিক পশারীর মেয়ে সুমি বেগম জানান, শনিবার দুপুরে তার বাবার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর পারিবারিক কবরস্থানে কবর খোঁড়া হয়। তবে বিকেলে কয়েকজন এসে সেখানে দাফন করতে দেওয়া হবে না বলে কবরটি ভরাট করে দেন। পরে রাতে দাফনের ব্যবস্থা করা হলে তারা নিজেরাই কবর খুঁড়ে বাবাকে দাফন করেন। এ সময় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি কয়েকজন গ্রাম পুলিশ উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয়দের কেউ দাফনে অংশ নেননি বলেও দাবি করেন তিনি।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাতেন বলেন, মানিক পশারী সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার পর মুক্তিযোদ্ধার তালিকাভুক্ত হন। তৎকালীন সরকারের চাপে তিনি ওই সাক্ষ্য দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন বাতেন। তার মতে, মানিক পশারীর দাফনে বাধা দেওয়া ঠিক হয়নি এবং নিজ জন্মভূমিতেই তার দাফন হওয়া উচিত ছিল।
অন্যদিকে, পিরোজপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মানিক পশারী তাদের নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। এ কারণে স্থানীয় লোকজন তার দাফনে বাধা দিলেও জামায়াতের পক্ষ থেকে দাফনে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর মানিক পশারী মেয়ের বাসায় অবস্থান করছিলেন। শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তার মৃত্যু হয়। পরে দাফনের জন্য মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলার চিতালিয়া গ্রামের বাড়িতে নেওয়ার পথে পিরোজপুর শহরে বাধার মুখে পড়েন স্বজনেরা। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন, জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী ও সাঈদীর অনুসারীরা বাধা দেন।
পরে পুলিশ মানিক পশারীর মরদেহ পিরোজপুর পুলিশ লাইন্সে নিয়ে যায়। সেখানে সাঈদীর অনুসারী ও স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেন। বিকেলে পুলিশি পাহারায় মানিক পশারীকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম জানান, রাতে চিতালিয়া গ্রামে মানিক পশারীর মরদেহ দাফন করা হয়েছে।
মানিক পশারী ২০০৯ সালের ১২ আগস্ট পিরোজপুর মুখ্য বিচারিক আদালতে সাঈদীসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের মামলা করেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের মামলায় মানিক পশারী ৬ নম্বর সাক্ষী ছিলেন।
রাশমিকা-বিজয় দম্পতির বিচ্ছেদের গুঞ্জন, নেপথ্যে কে?
গুদাম থেকে প্রায় ৩০ হাজার বোতল মদ চুরি!
জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইটে সাইবার হামলা