ক্রিকেটের নিয়মে 'বড় পরিবর্তন' আনলো আইসিসি

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৮ এএম

সময় নষ্ট করা রোধ, বলের মান নির্ধারণ এবং ফিল্ডিংয়ের নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম আরও স্পষ্ট করতে খেলার নিয়মে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।

১ অক্টোবর বা তারপর থেকে শুরু হওয়া সকল আন্তর্জাতিক সিরিজের জন্য এই নতুন নিয়মগুলো কার্যকর হয়েছে। চলমান সিরিজগুলো অবশ্য পুরোনো নিয়ম অনুসারেই পরিচালিত হবে।

পুরুষ ও নারীদের উভয় সংস্করণের জন্যই আপডেট করা এই খেলার নিয়মগুলো আইসিসির অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের নিয়ম ও প্রবিধান বিভাগে প্রকাশ করা হয়েছে।

আইসিসি পুরুষ ক্রিকেট কমিটির চেয়ারপারসন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, "খেলার গতি বাড়ানো, ক্রিকেট বলের মান এবং ফিল্ডিংয়ের নিয়মগুলো আরও স্পষ্ট করার উদ্দেশ্যে নিয়মে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। আধুনিক ক্রিকেটের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই পরিবর্তনগুলো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে।"

খেলার নিয়মগুলোতে যেসব প্রধান পরিবর্তন এসেছে

সকল ফরম্যাটের জন্য প্রযোজ্য পরিবর্তনসমূহ

ব্যাটারদের সময় নষ্টের পেনাল্টি: এই নিয়মে কড়াকড়ি আনা হয়েছে। কোনো ব্যাটার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বল মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত না হলে প্রথমবার সতর্কবার্তা, দ্বিতীয়বার চূড়ান্ত সতর্কবার্তা এবং তৃতীয় বা এর পরবর্তী প্রতিবার অপরাধের জন্য ফিল্ডিং দলকে ৫ রান পেনাল্টি দেওয়া হবে। এছাড়া বারবার এমন করলে আচরণবিধির ধারাও প্রয়োগ করা হতে পারে।

নারীদের বলের আকার ও ওজনে কড়াকড়ি: এতদিন পুরুষদের বলের সাইজ ও ওজনে নির্দিষ্ট সীমা থাকলেও নারী ও জুনিয়র ক্রিকেটের জন্য সাধারণত একই বল ব্যবহার করা হতো। এখন থেকে পুরুষ, নারী ও জুনিয়র ক্রিকেটের জন্য আলাদা তিনটি সুনির্দিষ্ট আকার ও ওজনের বলের নিয়ম করা হয়েছে।

ওভারথ্রো (Overthrow): ওভারথ্রো নিয়ে আগের অস্পষ্টতা দূর করা হয়েছে। স্টাম্পে রান আউট বা রান আটকানোর উদ্দেশ্যে বল ছোঁড়া হলেই কেবল তা ওভারথ্রো হিসেবে গণ্য হবে। বল থামানো বা সতীর্থকে পাস দেওয়ার সাধারণ মিসফিল্ড ওভারথ্রো নয়।

বল সেটেল বা শান্ত হওয়া: রোমাঞ্চকর ম্যাচের শেষ বলে বল পুরোপুরি সেটেল বা শান্ত হয়েছে কি না, তা নির্ধারণে আম্পায়াররা এখন আরও বেশি স্বাধীনতা পাবেন। বলটি বোলার বা উইকেটরক্ষকের হাতে থাকতেই হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

ফিল্ডারের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ: রান আউট বা স্টাম্পিংয়ের জন্য ফিল্ডারের হাতে বলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে। কেবল হাত দিয়ে বল ছুঁয়ে স্টাম্প ভেঙে দিলেই তা ধরা হয়েছে বলে গণ্য হবে না।

টেস্ট ক্রিকেট সংক্রান্ত বিশেষ পরিবর্তন

পিংক বলের ব্যবহার: কম আলোর কারণে খেলার সময় নষ্ট হওয়া কমাতে পারস্পরিক সম্মতিতে দিবালোকের টেস্টেও ট্রায়াল হিসেবে পিংক বল ব্যবহার করা যাবে। একবার পিংক বলের সিদ্ধান্ত হলে ম্যাচের পুরো সময় সেটিই বহাল থাকবে, ম্যাচ শুরুর পর আর লাল বলে ফেরা যাবে না।

দিনের শেষ উইকেটে খেলা বন্ধ নয়: আবহাওয়া ও পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে দিনের শেষ ওভারে উইকেট পতনের সাথে সাথে খেলার সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হবে না। যেহেতু বাকি বলগুলো পরের দিনই করতে হয়, তাই এটি সময় বাঁচায় না; বরং ফিল্ডিং দলকে পুরস্কৃত করতে এবং খেলায় রোমাঞ্চ বজায় রাখতে এই নিয়ম পরিবর্তন করা হয়েছে।

টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে নির্দিষ্ট নিয়ম

টি-টোয়েন্টিতে ইনিংসের বিরতি: টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এখন থেকে ১৫ মিনিটের নির্দিষ্ট বিরতি থাকবে। সময় নষ্ট হলে এটি কমিয়ে সর্বনিম্ন ১০ মিনিটে নামিয়ে আনা যাবে।

ড্রিংকস ব্রেকে কোচের প্রবেশ: ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ম্যাচের নিয়ম এক করা হয়েছে, যার ফলে এখন থেকে প্রধান কোচ বা তাদের মনোনীত ব্যক্তিরা ড্রিংকস ব্রেকে মাঠে প্রবেশ করতে পারবেন।

ওয়াইড বলের নিয়ম: ব্যাটাররা বলের আগে বা ডেলিভারির সময় নড়াচড়া করলে বোলারদের সুবিধা দিতে ট্রায়াল হিসেবে চালূ হওয়া নতুন ওয়াইড বলের নিয়মটি এখন স্থায়ীভাবে যোগ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ব্যাটার অফ সাইডে সরে গেলেও ডেলিভারির সময় তার পায়ের অবস্থানকেই ওয়াইডের মূল ভিত্তি হিসেবে ধরা হবে।

সূত্র: আইসিসি

ওয়াইএ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত