মিরপুরের উইকেট নিয়ে বিতর্ক-গামিনিকে শোকজ, আসছেন টনি হেমিং

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৫, ০১:১০ পিএম

দীর্ঘদিন ধরেই মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেট নিয়ে চলে আসছে প্রশ্ন, সমালোচনা আর হতাশা। এবার বিসিবিও প্রকাশ্যে জানিয়ে দিল অসন্তোষ। শুধু প্রধান মাঠ নয়, বরং আশপাশের গ্রিনহাউস উইকেটগুলোর অবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বোর্ড।

বিসিবির গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান মাহবুব আনাম সোজাসাপ্টা কিউরেটর গামিনি ডি সিলভাকে শোকজ করেছেন। তাঁর কাছে চাওয়া হয়েছে ব্যাখ্যা, পাশাপাশি ১৫ দিনের আলটিমেটামও দেওয়া হয়েছে মাঠ ও উইকেটের সংস্কারের জন্য।

যদিও কাগজে-কলমে ১৫ দিনের সময়সীমা ঠিক করা হয়েছে, কিন্তু বিসিবির ভেতরের অনেকে বলছেন-এই সময়ের মধ্যে মিরপুর একাডেমি মাঠ ও মূল মাঠের সংস্কার কার্যত অসম্ভব। কাজের গতি যেভাবে চলছে, তাতে করে টুর্নামেন্ট আয়োজন বা অনুশীলনের জন্য মাঠ প্রস্তুত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতেই বিসিবির ‘পুরনো ভরসা’ টনি হেমিংকে আবারও নিয়ে আসা হচ্ছে বাংলাদেশে। তবে এবার তিনি কেবল একজন পরামর্শক নন-পুরো বিসিবির টার্ফ ম্যানেজমেন্টের প্রধান হিসেবে যোগ দিচ্ছেন।

এক বছরের চুক্তিতে তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন মাঠের পরিচর্যা, পরিকল্পনা ও কিউরেটরদের পরিচালনায় সরাসরি যুক্ত থাকবেন। বিসিবি সূত্র জানাচ্ছে, হেমিং ইতোমধ্যে ঢাকায় পৌঁছেও গেছেন।

বিসিবির অভ্যন্তরীণ আলোচনায় উঠে এসেছে, মিরপুর ও পূর্বাচলে নির্মাণাধীন নতুন জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম-এই দুই ভেন্যুর উইকেট প্রস্তুতির দায়িত্বও টনি হেমিংয়ের হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে।

কিউরেটরদের অভিমত, হেমিংয়ের আগমনে মাঠ ব্যবস্থাপনায় একটা বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তাঁর অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক মানসিকতা দেশের মাঠের মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

উল্লেখ্য, মাসখানেক আগেই বিসিবি এনেছিল আরেক অস্ট্রেলিয়ান কিউরেটর টবি লামসডেনকে। তিনি দেশের বিভিন্ন ভেন্যুর কিউরেটরদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেন। কিউরেটরদের কেউ কেউ জানাচ্ছেন, টবি লামসডেন আসলে টনি হেমিংয়েরই শিষ্য। তিনি প্রায় সাত বছর টনির অধীনে কাজ করেছেন।

টনি হেমিং দায়িত্ব নিচ্ছেন মানেই গামিনি ডি সিলভাকে বিদায় জানানো হচ্ছে না। বরং বিসিবি ইতোমধ্যে তার সঙ্গে এক বছরের নতুন চুক্তি করেছে। এখন ভাবা হচ্ছে, গামিনিকে ঢাকার বাইরের মাঠগুলোতে কাজে লাগানো হতে পারে।

আরও পড়ুন