বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই রাউন্ড অব-৩২ নিশ্চিত করেছে জার্মানি। তবে ইকুয়েডরের বিপক্ষে ২-১ গোলের পরাজয়ের পর দলটির পারফরম্যান্স নিয়ে তীব্র সমালোচনায় নেমেছে দেশটির সংবাদমাধ্যম। বিশেষ করে মাঝমাঠের তারকা ফ্লোরিয়ান ভির্টজ, গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার এবং কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যানের কৌশলকে কাঠগড়ায় তুলেছে তারা।
প্রথম দুই ম্যাচে কুরাসাওকে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করা এবং আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে আগেই গ্রুপসেরার জায়গা নিশ্চিত করেছিল জার্মানি। তাই ইকুয়েডরের বিপক্ষে একাধিক পরিবর্তন নিয়ে দল সাজান নাগেলসম্যান। ম্যাচের শুরুতেই লেরয় সানের গোলে এগিয়ে গেলেও পরে নিলসন অ্যাঙ্গুলো ও গনসালো প্লাতার গোলে হেরে যায় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচে বিতর্কিত কয়েকটি সিদ্ধান্তও ছিল। ইকুয়েডরের দাবি, জার্মানির প্রথম গোলটি ফাউলের কারণে বাতিল হওয়া উচিত ছিল। অন্যদিকে জার্মানির অভিযোগ, দ্বিতীয়ার্ধে তাদের একটি স্পষ্ট পেনাল্টি ভিএআরের সিদ্ধান্তে দেওয়া হয়নি। তবে এসব বিতর্কের চেয়ে নিজেদের দলের দুর্বলতাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছে জার্মান সংবাদমাধ্যম।
দেশটির ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম স্কাই স্পোর্ট ডয়েচল্যান্ড লিখেছে, লেরয় সানের দ্রুত গোলের পরও জার্মানির খেলায় কোনো ধার, পরিকল্পনা কিংবা শারীরিক আগ্রাসন দেখা যায়নি। বিশেষ করে ফ্লোরিয়ান ভির্টজ ও জামাল মুসিয়ালা নিজেদের সামর্থ্যের ধারেকাছেও যেতে পারেননি। পাশাপাশি দুই গোলেই গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারের অবস্থান ও প্রতিক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ ছিল বলে মন্তব্য করেছে তারা। তাদের মতে, এই হার জার্মানির জন্য সময়মতো পাওয়া একটি সতর্কবার্তা।
জনপ্রিয় দৈনিক বিল্ড আরও কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় এই হার টুর্নামেন্টে সরাসরি কোনো প্রভাব ফেলেনি, কিন্তু এমন এলোমেলো ও মনোযোগহীন পারফরম্যান্স নকআউট পর্বে বড় বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তারা আরও দাবি করেছে, লেরয় সানের গোলটি আসলে হওয়া উচিত ছিল না। কারণ গোলের আগে আলেক্সান্দার পাভলোভিচের বিপজ্জনক ট্যাকল ফাউল হিসেবে ধরা উচিত ছিল। সাবেক আন্তর্জাতিক রেফারি ম্যানুয়েল গ্রাফের মন্তব্য তুলে ধরে পত্রিকাটি লিখেছে, এমন সিদ্ধান্তকে তিনি ‘প্রহসন’ বলে অভিহিত করেছেন।
আলগেমাইনে সাইটুংয়ের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দ্বিতীয়ার্ধে নাগেলসম্যানের একাধিক পরিবর্তনের পরীক্ষা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। অ্যাঞ্জেলো স্টিলার, ম্যাক্সিমিলিয়ান বেয়ার ও মালিক থিয়াও নিজেদের প্রমাণ করতে পারেননি। পুরো দলই মাঝমাঠে অপ্রয়োজনীয় বল হারিয়েছে এবং সহজ প্রতিপক্ষের বিপক্ষেও অগোছালো ফুটবল খেলেছে। নকআউট পর্বে এমন ভুলের সুযোগ থাকবে না বলেও সতর্ক করেছে তারা।
অন্যদিকে কিকার লিখেছে, টানা ১১ ম্যাচ জয়ের পর এই পরাজয় আবারও জার্মানির পুরোনো দুর্বলতাকে সামনে এনে দিয়েছে। শারীরিকভাবে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দলটিতে প্রয়োজনীয় লড়াকু ফুটবলারের অভাব স্পষ্ট হয়েছে। তাদের মতে, বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে এই সীমাবদ্ধতা কাটানো না গেলে জার্মানির শিরোপার স্বপ্ন দ্রুতই শেষ হয়ে যেতে পারে।
সোমবার (২৯ জুন) নকআউট পর্বে মাঠে নামবে জার্মানি। প্রতিপক্ষ এখনো চূড়ান্ত না হলেও সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্যারাগুয়ের নামই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। তবে তার আগে নিজেদের ভুলগুলো শুধরে নেওয়াই এখন নাগেলসম্যান ও তার দলের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সূত্র: দ্য মিরর।
রাউন্ড অব ৩২ নিশ্চিত করলো যারা
ইরানের জন্য ভিন্ন নিয়মে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনায় গ্যারি লিনেকার
হাল্যান্ড বনাম এমবাপ্পে, নিজদেশে কে কতটা গুরুত্বপূর্ণ