এক মাসের নাটকীয়তা, অঘটন, বিতর্ক ও রেকর্ডের পর্দা নামতে যাচ্ছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের। রোববার (১৯ জুলাই) নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপের পরাশক্তি স্পেন। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি পুরো আসরজুড়েই আলোচনায় ছিল রাজনীতি, বিতর্ক, নতুন ফরম্যাট এবং একের পর এক বিস্ময়।
৪৮ দলের সম্প্রসারিত বিশ্বকাপ নিয়ে শুরুর দিকে ছিল নানা সমালোচনা। অনেকের আশঙ্কা ছিল ম্যাচের মান কমে যাবে। তবে বাস্তবে সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। কেপ ভার্দে, নরওয়ে, কাতার, অস্ট্রেলিয়া ও প্যারাগুয়ের মতো দল চমক দেখিয়ে টুর্নামেন্টকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেছে।
নকআউট পর্বে সবচেয়ে বড় অঘটন ঘটায় প্যারাগুয়ে। টাইব্রেকারে জার্মানিকে বিদায় করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম বড় চমক উপহার দেয় তারা। দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে নরওয়েও প্রথমবারের মতো নকআউট ম্যাচ জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে নজর কাড়ে।
অন্যদিকে পর্তুগালের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচেই শেষ হয়ে যায় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিশ্বকাপ অধ্যায়। স্পেনের কাছে হারের পর ৪১ বছর বয়সী এই তারকা নিশ্চিত করেন, এটিই ছিল তার শেষ বিশ্বকাপ। একই ম্যাচের পর পদত্যাগ করেন পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্তিনেজ।
সহআয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনকে ঘিরেও তৈরি হয় বিতর্ক। লাল কার্ডে নিষিদ্ধ হওয়ার পর সেই শাস্তি স্থগিত হওয়ায় প্রশ্ন ওঠে ফিফার সিদ্ধান্ত নিয়ে। ইউরোপীয় ফুটবল মহল বিষয়টিকে নজিরবিহীন বলেও মন্তব্য করে।
রাজনীতিও ছিল পুরো টুর্নামেন্টের বড় অনুষঙ্গ। ইরান, হাইতি, সেনেগালসহ কয়েকটি দেশের খেলোয়াড়দের ভিসা জটিলতা, উচ্চ তাপমাত্রা নিয়ে উদ্বেগ, বাধ্যতামূলক হাইড্রেশন ব্রেক এবং আয়োজকদের নানা সিদ্ধান্ত সমালোচনার জন্ম দেয়। ফাইনালের হাফটাইম শো নিয়েও ব্যাপক আলোচনা হয়, যদিও শেষ পর্যন্ত বিরতি সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে ১৭ মিনিটে।
মাঠে সবচেয়ে বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে। বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড ছুঁয়ে পরে আবার এমবাপ্পের কাছে সেটি হারান মেসি। ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে জোড়া গোল করে এমবাপ্পে টুর্নামেন্টে নিজের গোলসংখ্যা ১০-এ নিয়ে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে আছেন। ফাইনালে গোল করে ব্যবধান কমানোর সুযোগ থাকছে মেসির সামনে।
ফাইনালের আগে স্পেন মাত্র এক গোল হজম করে পৌঁছেছে শিরোপার লড়াইয়ে। অন্যদিকে ইংল্যান্ডকে ৩-২ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। একদিকে টানা দুই বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন, অন্যদিকে ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য, সব মিলিয়ে বিশ্ব ফুটবলের দৃষ্টি এখন মেটলাইফ স্টেডিয়ামের দিকে। সূত্র: ডন
নিউইয়র্কে মিলেমিশে একাকার লিটল বাংলাদেশ লিটল আর্জেন্টিনা
বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন দলকে কেন আসল ট্রফি দেওয়া হয় না?
আমার বিশ্বাস, সে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে: পিকে