বিশ্বকে 'নিখুঁত ফুটবল' উপহার দিলো স্পেন

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২৬, ১১:২৮ এএম

২০২৬ বিশ্বকাপে স্পেন শুধু শিরোপাই জেতেনি, আধুনিক ফুটবলের এক অসাধারণ উদাহরণও তৈরি করেছে। টানা পাস, নিখুঁত প্রেসিং এবং প্রতিপক্ষকে পুরো ম্যাচজুড়ে চাপে রেখে শেষ মুহূর্তে গোল নকআউট পর্বে এই একই কৌশলে তারা পরপর তিন প্রতিপক্ষকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের মঞ্চে পৌঁছে যায়।

শুধু স্কোরলাইন দেখলে ম্যাচগুলো কঠিন মনে হতে পারে, কিন্তু মাঠের খেলায় ছিল স্পেনের একচ্ছত্র আধিপত্য। পুরো টুর্নামেন্টে আট ম্যাচে তাদের বিপক্ষে প্রতিপক্ষরা সম্মিলিতভাবে মাত্র ২.২ এক্সপেক্টেড গোল (xG) তৈরি করতে পেরেছে, যা তাদের রক্ষণভাগের দৃঢ়তা ও কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ।

ফাইনালেও স্পেনের দাপট

বিশ্বকাপ ফাইনালেও সেই চিত্রের ব্যতিক্রম হয়নি। লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা ১২০ মিনিট খেলেও স্পেনের গোলমুখে একটি শটও নিতে পারেনি। মাঝমাঠ ও রক্ষণে দুর্দান্ত প্রেসিংয়ের মাধ্যমে মেসিকে সতীর্থদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখে স্পেন। বলের দখল, আক্রমণ এবং গোলের সুযোগ সব ক্ষেত্রেই ছিল তাদের পরিষ্কার আধিপত্য।

তবে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণে নির্ধারিত সময়ে গোল পায়নি স্পেন। একের পর এক নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে তিনি দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন।

তোরেসের গোলে বিশ্বকাপ জয়

শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে জয়ের দেখা পায় স্পেন। সেই গোলেই নিশ্চিত হয় ২০১০ সালের পর দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বিশ্বকাপেও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।

শুরুটা ছিল হোঁচট দিয়ে

স্পেনের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হয়েছিল কেপ ভার্দের বিপক্ষে ড্র দিয়ে। তবে সেই হোঁচট কাটিয়ে ধীরে ধীরে নিজেদের ছন্দে ফিরে আসে দলটি। টুর্নামেন্ট যত এগিয়েছে, ততই পরিণত, আত্মবিশ্বাসী ও সংগঠিত ফুটবল উপহার দিয়েছে স্পেন।

সেমিফাইনালে অন্যতম ফেবারিট ফ্রান্সকে কার্যত ম্যাচে ফিরতেই দেয়নি তারা। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে দলের কৌশল, শৃঙ্খলা ও মানসিক দৃঢ়তা ছিল কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের সবচেয়ে বড় সাফল্য।

রদ্রির নেতৃত্ব, দলগত শক্তির জয়

ফাইনালে মাঝমাঠে রদ্রির পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ। বল দখল, খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভেঙে দেওয়ায় তিনি ছিলেন অনন্য। ২০২৫ সালের গুরুতর হাঁটুর চোট কাটিয়ে ফিরে এসে বিশ্বকাপজুড়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে জিতেছেন গোল্ডেন বল।

তবে স্পেনের সাফল্য কোনো একক তারকার ওপর নির্ভর করেনি। লামিনে ইয়ামাল, নিকো উইলিয়ামস, ফেরান তোরেস, রদ্রি থেকে শুরু করে রক্ষণভাগ সবাই নিজেদের দায়িত্ব নিখুঁতভাবে পালন করেছেন। দলগত সমন্বয়, শৃঙ্খলা এবং আক্রমণাত্মক ফুটবলই ছিল তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।

ইতিহাসের পাতায় স্পেন

নিউ জার্সির ফাইনালে স্পেন যেভাবে আধিপত্য বিস্তার করেছে, তাতে ট্রফি তাদের হাতেই ওঠা ছিল প্রাপ্য। এই বিশ্বকাপ জয় শুধু একটি শিরোপা নয়, বরং আধুনিক, ইতিবাচক ও দলনির্ভর ফুটবলের এক অনন্য স্বীকৃতি।

দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে স্পেন প্রমাণ করেছে, সামষ্টিক শক্তি ও পরিকল্পিত ফুটবল দিয়েই সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জন সম্ভব।

 

AM/YA
আরও পড়ুন