যুক্তরাষ্ট্রে নিশ্চিত হলো টিকটকের ভবিষ্যৎ

আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৭ এএম

যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের ভবিষ্যৎ নিয়ে দীর্ঘ অনিশ্চয়তার অবসান হলো। অবশেষে চূড়ান্ত হলো মালিকানা সংক্রান্ত চুক্তি। এখন থেকে টিকটকের যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রম পরিচালনা করবে একটি আমেরিকান মালিকানাধীন যৌথ উদ্যোগের প্রতিষ্ঠান।

নতুন এই প্রতিষ্ঠান প্ল্যাটফর্মের ডেটা সুরক্ষা জোরদার করবে। কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ ও সফটওয়্যার নিরাপত্তাতেও থাকবে বিশেষ নজর। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য।

টিকটকের যুক্তরাষ্ট্রীয় সম্পদ কিনে নেওয়া যৌথ উদ্যোগটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে। ঘোষণা করা হয়েছে নেতৃত্ব দলও। সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে এই চুক্তি কার্যকর হয়।

সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। তার শর্ত ছিল- চীনা মালিকানাধীন বাইটড্যান্সকে টিকটকের যুক্তরাষ্ট্র অংশ আলাদা করতে হবে। না হলে অ্যাপটি নিষিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ত।

নতুন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী হয়েছেন অ্যাডাম প্রেসার। তিনি আগে যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের ডেটা সুরক্ষা উদ্যোগে নেতৃত্ব দিয়েছেন। প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবে আছেন উইল ফ্যারেল। তিনি সাইবার নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা সুরক্ষায় অভিজ্ঞ।

পরিচালনা পর্ষদেও আছে বড় বড় নাম। রয়েছেন টিকটক ইউএস প্রধান শৌ চিউ, ওরাকলের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী কেনেথ গ্লুকও আছেন বোর্ডে। এছাড়া সিলভার লেক, সকোয়েহানা ও এমজিএক্সের প্রতিনিধিরাও যুক্ত হয়েছেন।

ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে চুক্তি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকেও ধন্যবাদ জানান তিনি। তার ভাষায়, “চুক্তিটি অন্যভাবে শেষও হতে পারত।”

ধারণা করা হচ্ছে, চুক্তির পর ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতায় বড় কোনো পরিবর্তন আসবে না। তবে টিকটকের অ্যালগরিদমের নিয়ন্ত্রণ এখন নতুন মালিকানার হাতে যাবে। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীদের ডেটা সংরক্ষণের দায়িত্ব পাবে ওরাকল।

অন্যদিকে, বাইটড্যান্স বৈশ্বিক পর্যায়ে বিজ্ঞাপন, ই-কমার্স ও বিপণন কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। অর্থাৎ অ্যাপের বৈশ্বিক কাঠামো পুরোপুরি বদলে যাচ্ছে না। এই সিদ্ধান্তে স্বস্তি পেতে পারেন টিকটকের প্রায় ২০ কোটি মার্কিন ব্যবহারকারী। অনেকেই এই প্ল্যাটফর্মকে বিনোদন, তথ্য এমনকি আয়ের উৎস হিসেবে ব্যবহার করেন।

নতুন যৌথ উদ্যোগের ৫০ শতাংশ মালিকানা থাকবে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের হাতে। এই দলে আছে ওরাকল, সিলভার লেক ও এমজিএক্স। প্রায় ৩০ শতাংশ শেয়ার থাকবে বাইটড্যান্স–সংশ্লিষ্ট কিছু বিনিয়োগকারীর কাছে। আর ১৯ দশমিক ৯ শতাংশ থাকবে বাইটড্যান্সের নিয়ন্ত্রণে।

তবে চুক্তি ঘিরে বিতর্ক থামেনি। ডেমোক্র্যাট সিনেটর এড মার্কি প্রশ্ন তুলেছেন অ্যালগরিদমের স্বাধীনতা নিয়ে। তার মতে, জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে সব সন্দেহ এখনো দূর হয়নি।

চুক্তির অংশ হিসেবে নতুন প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সের কাছ থেকে অ্যালগরিদম লাইসেন্স নেবে। তারপর সেটি পুনরায় প্রশিক্ষণ ও পর্যালোচনা করা হবে। এই প্রক্রিয়াই ভবিষ্যতে বড় আলোচনার বিষয় হতে পারে।

টিকটক ইস্যুটি শুধু প্রযুক্তি নয়, কূটনীতি ও বাণিজ্য রাজনীতির অংশ হয়ে উঠেছিল। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কেও এর প্রভাব পড়েছে।

SN
আরও পড়ুন