কেন একের পর এক প্রতিষ্ঠান 'এক্স' ত্যাগ করছে?

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৫ এএম

জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'এক্স' (সাবেক টুইটার) থেকে একে একে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, সিটি কাউন্সিল এবং বিশ্ববিদ্যালয়। সম্প্রতি কুইন্স ইউনিভার্সিটি বেলফাস্ট (QUB) এবং বেলফাস্ট সিটি কাউন্সিল তাদের অফিশিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। মূলত প্ল্যাটফর্মটির এআই টুল 'গ্রোক' (Grok) ব্যবহার করে আপত্তিকর ছবি তৈরির বিতর্ক এবং ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কেন এই গণপ্রস্থান?

বিবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্ল্যাটফর্মটির নীতিমালায় পরিবর্তন এবং নিয়ন্ত্রণহীন কন্টেন্টের কারণে অনেক সংস্থা 'এক্স'-কে অনিরাপদ মনে করছে। নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড কাউন্সিল ফর ভলান্টারি অ্যাকশন (Nicva)-এর প্রধান নির্বাহী সেলিন ম্যাকস্ট্রাভিক বলেন, "এক্স এখন মিথ্যা ছড়ানোর এবং ঘৃণা ও নারীবিদ্বেষ উসকে দেওয়ার জায়গায় পরিণত হয়েছে।" তিনি আরও যোগ করেন যে, আগে এটি যোগাযোগের ভালো মাধ্যম থাকলেও গত দুই বছরে এর গতিপথ সম্পূর্ণ বদলে গেছে।

মূল অভিযোগগুলো কী কী?

প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে মূলত তিনটি প্রধান কারণ সামনে আনা হয়েছে:

১. এআই টুল 'গ্রোক' (Grok): এক্স-এর নিজস্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা 'গ্রোক' ব্যবহার করে বাস্তব মানুষের যৌনতাপূর্ণ বা আপত্তিকর ছবি (Deepfake) তৈরির অভিযোগ উঠেছে, যা নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।
২. ঘৃণা বক্তব্য (Hate Speech): এলন মাস্ক ২০২২ সালে ৪৪ বিলিয়ন ডলারে টুইটার কেনার পর কন্টেন্ট রেগুলেশন বা নিয়ন্ত্রণ শিথিল করেছেন। ফলে এলজিবিটি বা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য ব্যাপকভাবে বেড়েছে।
৩. প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি রক্ষা: বেলফাস্ট সিটি কাউন্সিলের গ্রিন পার্টি কাউন্সিলর ব্রায়ান স্মিথ বলেন, "এক্স এখন নিরাপত্তার চেয়ে মুনাফাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এমন প্ল্যাটফর্মে থাকলে আমাদের প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।"

কারা কারা ছেড়েছে?

সাম্প্রতিক সময়ে বেলফাস্ট সিটি কাউন্সিল ছাড়াও ডাবলিন সিটি কাউন্সিল গত জানুয়ারিতে তাদের কার্যক্রম স্থগিত করেছে। এছাড়া নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড পুলিশ সার্ভিস (PSNI) তাদের জেলাভিত্তিক অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। কুইন্স ইউনিভার্সিটি বেলফাস্ট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা এমন একটি পরিবেশে যোগাযোগ করতে চায় যা "সম্মানজনক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল্যবোধের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।"

উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরে এক্স-এর এই নিয়ন্ত্রণহীন পরিবেশ নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে এর ব্যবহারকারী ও বিজ্ঞাপনদাতাদের ওপর। তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা

SN
আরও পড়ুন