পণ্য ও কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে মোংলা বন্দর। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বন্দরটিতে ১ কোটি ২২ লাখ ৫১ হাজার টন কার্গো এবং ২৯ হাজার ৭২৪ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। একই সময়ে রাজস্ব আয় হয়েছে ৩৮৭ কোটি ৯৫ লাখ ১২ হাজার টাকা। বন্দরের সক্ষমতা আরো বাড়াতে নাব্যতা উন্নয়ন, দুটি কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) খুলনার খালিশপুরের পোর্ট অডিটোরিয়ামে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা।
বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। এর বিপরীতে হ্যান্ডলিং হয়েছে ১ কোটি ২২ লাখ ৫১ হাজার টন। আগের অর্থবছরের তুলনায় কার্গো হ্যান্ডলিং বেড়েছে ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টন বা ১৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ। কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৫ হাজার টিইইউএস। এর বিপরীতে হ্যান্ডলিং হয়েছে ২৯ হাজার ৭২৪ টিইইউএস। এক বছরে এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৪৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ৩৮৭ কোটি ৯৫ লাখ ১২ হাজার টাকা। আগের অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব বেড়েছে ৪০ কোটি ৮২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা বা ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ।
বন্দর ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে জাহাজ ও গাড়ি আমদানিতেও প্রবৃদ্ধি হয়েছে। গত অর্থবছরে মোংলা বন্দরে ৮১৫টি জাহাজ এসেছে। একই সময়ে আমদানি হয়েছে ১২ হাজার ৭৫টি রিকন্ডিশন্ড গাড়ি, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ৪৯৬টি বেশি।
মোংলা বন্দরের ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণে নাব্যতা বাড়ানোকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে জেটির সামনে ৭ দশমিক ৫ মিটার ড্রাফটের জাহাজ বার্থিং করতে পারে। ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে তা ৯ দশমিক ৫ মিটারে উন্নীত করার কাজ চলছে বলে জানান বন্দর চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, পশুর চ্যানেলের ইনার বারে ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ড্রেজিং করা গেলে জেটি পর্যন্ত ৯ দশমিক ৫ থেকে ১০ মিটার ড্রাফটের জাহাজ আনা সম্ভব হবে। এতে বন্দরের পণ্য পরিবহন সক্ষমতা আরও বাড়বে। বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে ‘আপগ্রেডেশন অব মোংলা পোর্ট’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ভারতীয় এলওসি-৩-এর অর্থায়নে এ প্রকল্পের আওতায় দুটি কনটেইনার টার্মিনাল, কনটেইনার হ্যান্ডলিং ইয়ার্ড ও ডেলিভারি ইয়ার্ড নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন করা হবে।
এ ছাড়া জাহাজ চলাচল ও জরুরি সেবা আরো শক্তিশালী করতে দুটি টাগবোট, একটি বয়া লেইং ভেসেল, একটি সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ ভেসেল, একটি পাইলট মাদার ভেসেল এবং একটি সার্ভে অ্যান্ড রিসার্চ ভেসেল সংগ্রহ করা হচ্ছে। ২০২৭ সালের জুনে প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা। বন্দর চেয়ারম্যান জানান, ব্যবহারকারীদের সেবা সহজ করতে ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালু রয়েছে। পারমিশন, যন্ত্রপাতি বুকিং ও বিল পরিশোধসহ বিভিন্ন সেবা অনলাইনে দেওয়া হচ্ছে। ই-পেপার সার্ভিসের কাজও শেষ হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে এটি উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কনটেইনারবাহী জাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম ১ দশমিক ৮০ দিন এবং অন্যান্য জাহাজের ক্ষেত্রে ৩ দশমিক ৪৪ দিন। ছয়টি কনটেইনার ইয়ার্ডে প্রায় ৬ হাজার টিইইউএস কনটেইনার এবং দুটি কার পার্কিং ইয়ার্ডে প্রায় ২ হাজার গাড়ি রাখার সুবিধা রয়েছে।
মতবিনিময় সভায় বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর মো. শফিকুল ইসলাম সরকার, সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) প্রকৌশলী শেখ শওকত আলী, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা কমান্ডার এস এম আফজালুল ইসলাম, পরিচালক (বোর্ড) কালাচাঁদ সিংহ, হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামসহ বন্দর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
একনেকে ১৬ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন
মাগুরায় ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৫০৬ কোটি টাকা!
ঢাকার কবরস্থানে সংকট বহুমুখী, সংরক্ষণ ব্যয় কোটি টাকা