প্রবাসীদের রেমিট্যান্সে কর আরোপের প্রস্তাব ট্রাম্পের, আওতায় আসবে বাংলাদেশিরাও

আপডেট : ২১ মে ২০২৫, ০৩:৪১ এএম

রপ্তানির পর প্রবাসী আয়ই বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম বড় উৎস। অথচ এই আয় নিয়ে নতুন শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি অভিবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর ৫ শতাংশ কর আরোপের প্রস্তাব দিয়েছেন। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কের  নেতিবাচক প্রভাব শুরু হতে না হতে এবার রেমিট্যান্সেও চাপে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদিত নতুন বিল ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্টের’ আওতায় অভিবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর ৫ শতাংশ কর আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের হাউজ বাজেট কমিটিতে ইতোমধ্যে বিলটি অনুমোদন পেয়েছে। আইনটি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানো ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে- যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহে বড় ধাক্কা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

নতুন কর কাঠামোর আওতায় আসবে বাংলাদেশিরাও
এই আইনে মার্কিন নাগরিক ব্যতীত সব অভিবাসীর পাঠানো অর্থের ওপরে করারোপ করা হবে। করের জন্য কোনও ন্যূনতম সীমা নির্ধারণ করা হয়নি, অর্থাৎ যেকোনও অঙ্কের রেমিট্যান্সেই কর প্রযোজ্য হবে। ফলে গ্রিন কার্ডধারী ও এইচ-১বি ভিসাপ্রাপ্ত প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থের ওপর এই করও আরোপিত হবে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী আয়ে ৫ শতাংশ করারোপের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তা বাংলাদেশের জন্য ডলার সংকট মোকাবিলায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। সরকারের পাশাপাশি রেমিট্যান্সনির্ভর অর্থনীতিগুলোকে এখনই কৌশল নির্ধারণ করতে হবে-কীভাবে বিকল্প বাজার তৈরি ও বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোতে উৎসাহ দেওয়া যায়।

ব্যাংকিং মাধ্যমে রেমিট্যান্স কমার শঙ্কা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলের বদলে হুন্ডির মতো অনানুষ্ঠানিক পন্থায় অর্থ পাঠানোর দিকে ঝুঁকতে পারেন। এতে শুধু রেমিট্যান্স প্রবাহই নয়, বৈধ চ্যানেলের লেনদেনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বিশ্বব্যাংকের ২০২৪ সালের তথ্যমতে, বাংলাদেশ ছিল বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহৎ রেমিট্যান্সপ্রাপ্ত দেশ। সে বছর বাংলাদেশে এসেছিল ২৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স, যার মধ্যে বড় একটি অংশ এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে।

রেমিট্যান্সের সবচেয়ে বড় উৎস যুক্তরাষ্ট্র
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেমিট্যান্স এসেছে ৪২৭ কোটি ১০ লাখ ডলার- বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫২ হাজার ২৬ কোটি টাকা (১ ডলার= ১২২ টাকা ধরে)। এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল প্রায় অর্ধেক, অর্থাৎ ১০৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

৫ শতাংশ কর কার্যকর হলে কেবল এই সময়ের হিসাবেই রেমিট্যান্স থেকে ২১ দশমিক ৮৫ কোটি ডলার বা প্রায় ২ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে যাবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রবাসী আয় হলো দায়বিহীন বৈদেশিক মুদ্রার উৎস। এই অর্থ দেশের রিজার্ভ বাড়ায়, কিন্তু এর বিপরীতে কোনও বৈদেশিক দায় তৈরি হয় না। রপ্তানি বা বৈদেশিক ঋণের ক্ষেত্রে যে ডলার অর্জন করা হয়, তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানি কিংবা ঋণ পরিশোধ করতে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের (জুলাই-এপ্রিল) মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৪৫৩ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৮ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে ১৮ শতাংশের মতো রেমিট্যান্স সরবরাহ করেছে।

MMS
আরও পড়ুন