প্রশান্ত মহাসাগরের নীল হ্রদ পরিবেষ্টিত দ্বীপ থেকে শুরু করে চিলির বিখ্যাত ওয়াইন উপত্যকা—২০২৬ সালে ভ্রমণের জন্য বিশ্বের সেরা কিছু গন্তব্যের তালিকা প্রকাশ করেছে বিবিসির একদল ভ্রমণ বিশেষজ্ঞ।
আমরা সাধারণত ক্রোয়েশিয়ার ডাব্রোভনিক বা ইতালির রোমের মতো জনপ্রিয় শহরগুলোর নাম শুনে অভ্যস্ত। কিন্তু ক্রমবর্ধমান পর্যটনের চাপে এসব শহর এখন দমবন্ধকর। তাই ২০২৬ সালের এই বিশেষ তালিকায় এমন কিছু স্থানকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, যা এখনো পর্যটকদের ভিড়ে হারিয়ে যায়নি।
এবারের তালিকার মূল বৈশিষ্ট্য হলো- 'সাসটেইনেবল ট্রাভেল' বা টেকসই পর্যটন। অর্থাৎ এমন সব গন্তব্যকে বেছে নেওয়া হয়েছে যেখানে আপনার ভ্রমণ কেবল বিনোদনই নয়, বরং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন, পরিবেশ রক্ষা এবং বিলুপ্তপ্রায় সংস্কৃতি সংরক্ষণে সরাসরি অবদান রাখবে।
এই রোমাঞ্চকর ও বৈচিত্র্যময় গন্তব্যগুলোর বিস্তারিত তথ্য নিয়ে আমরা সাজিয়েছি একটি ধারাবাহিক প্রতিবেদন। আজ থাকছে এর প্রথম পর্ব।
আবুধাবি: মরুভূমির বুকে সংস্কৃতির নতুন বিপ্লব
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবি এখন কেবল তেলের শহর নয়, বরং বিশ্ব পর্যটনের এক আধুনিক ও উচ্চাভিলাষী গন্তব্যে রূপান্তরিত হয়েছে। দীর্ঘ কয়েক বছরের উন্নয়নের পর শহরটির বিখ্যাত ‘সাদিয়াত সাংস্কৃতিক জেলা’ (Saadiyat Cultural District) তার চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রবেশ করছে। ২০১৭ সালে ‘লুভর আবুধাবি’র মাধ্যমে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, ২০২৬ সালে তা পূর্ণতা পেতে যাচ্ছে।
আবুধাবির এই সাংস্কৃতিক বিপ্লবে নতুন পালক হিসেবে যুক্ত হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম ডিজিটাল আর্ট মিউজিয়াম ‘টিম ল্যাব ফেনোমেনা’। পাশাপাশি বড় আকর্ষণ হিসেবে থাকছে ‘জায়েদ ন্যাশনাল মিউজিয়াম’। এখানে দর্শনার্থীরা আরবের প্রাচীন ইতিহাস, মুক্তা আহরণের রোমাঞ্চকর গল্প এবং আধুনিক আমিরাতের প্রতিষ্ঠাতা শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ানের জীবন ও দর্শন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।
ইয়াস আইল্যান্ডে পর্যটকদের বিনোদনের মাত্রা আরও বাড়াতে ‘ওয়ার্নার ব্রাদার্স ওয়ার্ল্ড’-এর সাথে নতুন করে যুক্ত হচ্ছে ‘হ্যারি পটার’ জোন। এছাড়া ‘ইয়াস ওয়াটারওয়ার্ল্ড’-এ যুক্ত হচ্ছে আরও আধুনিক সব রাইড। এমনকি মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম ‘ডিজনিল্যান্ড’ নির্মাণের পরিকল্পনাও এখন আলোচনার তুঙ্গে।
আবুধাবির চিরচেনা আভিজাত্য বজায় রেখেছে ‘শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদ’ এবং ‘কাসর আল ওয়াতান’ (রাষ্ট্রপতি প্রাসাদ)। রোমাঞ্চপ্রিয়দের জন্য ‘ফেরারি ওয়ার্ল্ড’ এবং ‘সি-ওয়ার্ল্ড’ তো আছেই। যারা প্রকৃতির মাঝে সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য রয়েছে ‘জুবাইল ম্যাঙ্গ্রোভ পার্ক’ এবং নীল জলরাশির ‘কর্নিশ বিচ’।
শহরের আধুনিকতার পাশাপাশি পর্যটকদের বিমোহিত করে ‘এমিরেটস হেরিটেজ ভিলেজ’-এর বেদুঈন জীবনধারা এবং ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট খ্যাত ‘আল আইন’ শহর। এছাড়া মরুভূমির বুকে ‘ডুন বিসিং’ ও ক্যাম্পিং পর্যটকদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
বালুর দুর্গ আর সাধারণ তাবু থেকে শুরু হওয়া এই শহরটি ২০২৬ সাল নাগাদ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে নিজের অবস্থান আরও সুসংহত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
২০২৬ সালে ভ্রমণের জন্য বাছাইকৃত গন্তব্যগুলো আমাদের যেমন অজানাকে জানার সুযোগ করে দেয়, তেমনি দায়িত্বশীল পর্যটনের গুরুত্বও মনে করিয়ে দেয়। আপনি পাহাড়ের নির্জনতা পছন্দ করুন বা আধুনিক শহরের সাংস্কৃতিক জোয়ার এই তালিকার প্রতিটি পরতে লুকিয়ে আছে নতুন কোনো রোমাঞ্চ।
আপনার পরবর্তী বড় অভিযানের পরিকল্পনা শুরু করার এখনই সময়। মনে রাখবেন, আপনার একটি সঠিক সিদ্ধান্ত কেবল আপনাকে আনন্দই দেবে না, বরং একটি অঞ্চলের পরিবেশ ও বিলুপ্তপ্রায় সংস্কৃতি রক্ষা করতেও সহায়তা করবে।
বিবিসির সেরা গন্তব্যের তালিকার পরবর্তী স্থানগুলো সম্পর্কে জানতে আমাদের পরবর্তী পর্বগুলোতে চোখ রাখুন। আপনার পছন্দের তালিকায় কোন দেশটি সবার উপরে? আমাদের জানাতে ভুলবেন না।
সেন্টমার্টিন ভ্রমণে নতুন সর্তকবার্তা, পর্যটকদের জানা জরুরি
পাকিস্তানের অনিন্দ্য সুন্দর কিছু দর্শনীয় স্থান
আবেদনের পাঁচ মিনিটেই মিলছে ফ্যামিলি ভিজিট ভিসা
