আসামের মুখ্যমন্ত্রী

হিন্দুরা ৩ সন্তান নিন, মুসলিমদের সংখ্যা বাড়ছে

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫০ এএম

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে এক বিস্ফোরক ও বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। তিনি হিন্দু দম্পতিদের কেবল একটি সন্তানে সীমাবদ্ধ না থেকে অন্তত দুই অথবা তিন সন্তান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। 

অন্যদিকে, সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি তার বার্তা হলো—তারা যেন সাত-আট সন্তান না নেয়। মুখ্যমন্ত্রীর এমন মন্তব্য ভারতের ধর্মীয় ও সামাজিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে বিতর্কের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। খবর এনডিটিভির। 

মঙ্গলবার(৩০ ডিসেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হিমন্ত শর্মা দাবি করেন, রাজ্যে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় জন্মহার অস্বাভাবিক বেশি, বিপরীতে হিন্দুদের মধ্যে এই হার আশঙ্কাজনকভাবে কমছে। 

তিনি সতর্ক করে বলেন, হিন্দুরা যদি সন্তান সংখ্যা না বাড়ায়, তবে ভবিষ্যতে তাদের ঘর ও সম্পদ দেখভাল করার মতো কেউ অবশিষ্ট থাকবে না। আসামের জনমিতি বা জনসংখ্যার ভারসাম্য দ্রুত বদলে যাচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। 

মুখ্যমন্ত্রী পরিসংখ্যান তুলে ধরে দাবি করেন, ২০২৭ সালের আদমশুমারিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুসলমানদের জনসংখ্যা ৪০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। তিনি তার ছাত্র রাজনীতির সময়কার কথা উল্লেখ করে বলেন, এক সময় তাদের জনসংখ্যা ছিল মাত্র ২১ শতাংশ, যা ২০১১ সালে ৩১ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। হিমন্ত শর্মার আশঙ্কা, অদূর ভবিষ্যতে ভূমিপুত্র অসমীয়াদের জনসংখ্যা ৩৫ শতাংশের নিচে নেমে যাবে এবং বাংলাদেশ থেকে আসা মানুষের প্রভাব সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে।

জনসংখ্যা বৃদ্ধির এই প্রবণতাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ওরা (বাংলাদেশ) প্রায়ই বলে উত্তর-পূর্ব ভারত আলাদা করে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত হওয়া উচিত। এর জন্য যুদ্ধ করার দরকার নেই, জনসংখ্যা ৫০ শতাংশ পেরোলে তা আপনা-আপনি হয়ে যাবে। 

হিমন্ত শর্মা তার বক্তব্যে বিরোধী দল কংগ্রেসকেও একহাত নেন। তিনি অভিযোগ করেন, কংগ্রেসের ভেতর থেকে মুসলমানদের জন্য ৪৮টি আসন সংরক্ষণের দাবি তোলা হচ্ছে এবং দলটির ‘ইকোসিস্টেম’ পুরোপুরি সংখ্যালঘু ভোটের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। 

HN
আরও পড়ুন