মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্রতর হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের শুরুতে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বর্তমানে পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও গ্যাস চলাচল কার্যত বন্ধ রয়েছে, যা এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে টোকিওতে আয়োজিত এক জ্বালানি সম্মেলনে মার্কিন স্বরাষ্ট্র সচিব ডগ বারগাম ঘোষণা করেছেন যে, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোতে ‘নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ’ জ্বালানি সরবরাহ করতে যুক্তরাষ্ট্র সম্পূর্ণ প্রস্তুত। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘এনার্জি ডমিন্যান্স’ নীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের এমন জ্বালানি সহায়তা দেবে যা কোনো ‘সন্ত্রাসী শাসন’ বিঘ্নিত করতে পারবে না। এছাড়া খনিজ সম্পদের জন্য চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতেও যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করার কথা বলে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) টোকিওতে ইন্দো-প্যাসিফিক জ্বালানি নিরাপত্তা মন্ত্রী পর্যায়ের ও ব্যবসায়িক ফোরামের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
যুদ্ধের ময়দানে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরান ‘পুরোপুরি পরাজিত’ হয়েছে এবং এখন তারা চুক্তির প্রস্তাব দিচ্ছে, যা তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। এদিকে, জাপানের ওকিনাওয়া থেকে ২,৫০০ মার্কিন মেরিন সেনা সরাসরি স্থল অভিযানে অংশ নিতে রওনা হয়েছে। পাল্টা আঘাত হিসেবে ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলো বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে এবং ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের তেল স্থাপনাগুলো ‘ভস্মীভূত’ করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। সংঘাতের এই আবহে কাতার ও বাহরাইন তাদের নাগরিকদের দ্রুত সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

