বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান ধমনী ‘হরমুজ প্রণালি’ চীন ও ইরানের যৌথ নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এমনটা ঘটলে ভারতের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহাবিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ভারতের প্রখ্যাত বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞ সৌরভ মুখার্জিয়া।
সোমবার (৬ এপ্রিল) এনডিটিভি-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই আশঙ্কার কথা জানান।
সৌরভ মুখার্জিয়ার মতে, এই সংকটের নেপথ্যে রয়েছে চীনের গভীর চাল। বেইজিং বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম খনিজ তেল আমদানিকারক। মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা কমাতে চীন এখন কৌশলগতভাবে ইরানের সাথে মিত্রতা বাড়িয়ে হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছে। ২০২১ সালে ইরানের সাথে ২৫ বছর মেয়াদী চুক্তির মাধ্যমে চীন ইতোমধ্যেই সস্তায় তেল ও বিশাল বিনিয়োগের পথ নিশ্চিত করেছে। পাকিস্তান ও ওমানের বন্দরে বিনিয়োগের মাধ্যমে তারা এই জলপথের ওপর একটি বিকল্প নিয়ন্ত্রণ বলয় বা ‘গ্রেটার কন্ট্রোল’ তৈরির চেষ্টা করছে।
এই ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ভারতের উদীয়মান অর্থনীতির জন্য এক মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সৌরভ মুখার্জিয়া উল্লেখ করেন, ভারতের অর্থনীতি আগে থেকেই কিছুটা মন্থর। এখন তেলের উচ্চমূল্য, রুপির রেকর্ড দরপতন এবং ক্রমবর্ধমান সুদের হারের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তিনি আশঙ্কা করছেন, এর ফলে সরাসরি শেয়ার বাজার ও কর্মসংস্থানে ধস নামবে এবং মধ্যবিত্তের ভোগ ব্যয় মারাত্মকভাবে হ্রাস পাবে।
কার্নেগি এনডাউমেন্টের গবেষক আবদুল্লাহ বাবাবুদেও মনে করেন, চীন এই সুযোগে মধ্যপ্রাচ্যে তার সামরিক ও কৌশলগত প্রভাব কয়েক গুণ বাড়িয়ে নেবে, যা দীর্ঘদিনের মার্কিন আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে। হরমুজ প্রণালির এই সম্ভাব্য অবরোধ কয়েক দিন বা সপ্তাহের বিষয় নয়, বরং এটি মাসের পর মাস স্থায়ী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র: এনডিটিভি ও এপি।
যুদ্ধবিরতি হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার একমাত্র উপায়
হরমুজ প্রণালি না খুললে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ট্রাম্পের
