মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং লজিস্টিক জটিলতার কারণে ইতালির গুরুত্বপূর্ণ চারটি বিমানবন্দরে জেট জ্বালানির (Jet Fuel) তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্রিটিশ জ্বালানি জায়ান্ট ‘এয়ার বিপি’ (Air Bp) আগামী ৯ এপ্রিল পর্যন্ত একটি জরুরি সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি বা ‘NOTAM’ ইস্যু করেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএনএসএ (ANSA) ও আনাদোলু এজেন্সির (Anadolu Agency) তথ্য অনুযায়ী, ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়ায় এই অভাবনীয় রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এয়ার বিপি তাদের চুক্তিবদ্ধ বিমান সংস্থাগুলোর জন্য একটি নোটিফায়িং বুলেটিন বা 'NOTAM' ইস্যু করেছে। এই তালিকায় থাকা বোলোনিয়া, মিলান লিনাটে, ত্রেভিজো এবং ভেনিস বিমানবন্দরে জ্বালানি উত্তোলনে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।
সাধারণ ফ্লাইটের ক্ষেত্রে বোলোনিয়া ও ভেনিসে সর্বোচ্চ ২,০০০ লিটার এবং ত্রেভিজোতে ২,৫০০ লিটার জ্বালানি নেওয়ার সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। জরুরি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স, রাষ্ট্রীয় ভিআইপি ফ্লাইট এবং ৩ ঘণ্টার বেশি দূরত্বের (Long-haul) ফ্লাইটগুলো এই রেশনিং ব্যবস্থার আওতামুক্ত থাকবে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে জেট জ্বালানির প্রাপ্যতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
যদিও ইতালির সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (ENAC)-এর প্রেসিডেন্ট পিয়েরলুইগি ডি পালমা জানিয়েছেন, বর্তমান ঘাটতি প্রধানত ‘ঈস্টার’ ছুটির উচ্চ ট্রাফিক চাপের সাথে সংশ্লিষ্ট। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে এর প্রভাব আরও ভয়াবহ হতে পারে।
সরবরাহ শৃঙ্খল: ইউরোপ তার জেট ফুয়েলের একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে সংগ্রহ করে। শিপিং রুটগুলোতে অস্থিরতা থাকায় সরবরাহ চেইন আগের মতো নিরবচ্ছিন্ন নেই, যার ফলে এয়ারপোর্টে মজুদ করা জ্বালানির ওপর বাড়তি চাপ পড়েছে।
ভেনিস বিমানবন্দরসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় পরিস্থিতি কিছুটা নাজুক হওয়ায়, পাইলটদের গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই পর্যাপ্ত জ্বালানি সংগ্রহ করে (Tankering) আসার বিশেষ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এয়ারপোর্ট অপারেটর ‘সেভ’ (Save Group) জানিয়েছে, অন্যান্য সরবরাহকারীরা এখনো স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাচ্ছে। তবুও, আসন্ন কয়েকদিন ইতালিগামী যাত্রীদের তাদের নিজ নিজ বিমান সংস্থার মাধ্যমে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এক রাতেই ইরানকে ‘গুঁড়িয়ে’ দেওয়া সম্ভব: ট্রাম্প
