আন্তর্জাতিক শিপিং সংস্থা

‘একে অপরের বাণিজ্যিক জাহাজ জব্দ করা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন’

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১৮ পিএম

একটি শিপিং সংস্থা এই পাল্টাপাল্টি জাহাজ আটকের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং নাবিকদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অফ শিপিং-এর মেরিন ডিরেক্টর জন স্টপার্ট আল জাজিরাকে বলেন, নাবিকদের কোনো রকম "নিপীড়ন ছাড়া অবাধে" তাদের কাজ করতে দিতে হবে। এই সংস্থাটি বিশ্বের প্রায় ৮০ শতাংশ বাণিজ্যিক জাহাজের প্রতিনিধিত্ব করে।

স্টপার্ট এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী 'অবাধ নৌ-চলাচলের স্বাধীনতার' ওপর আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মূল বক্তব্যের সারসংক্ষেপ নিচে দেওয়া হলো:

  • রাজনৈতিক উদ্দেশ্য: রাজনৈতিক পয়েন্ট জেতার জন্য নিরপরাধ নাবিকদের বন্দি করা এবং জাহাজ আটক করা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।

  • ভুল নজির: ইরান হরমুজ প্রণালীতে টোল বা কর আদায়ের যে ইচ্ছা প্রকাশ করেছে, তার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। এমনটা চললে বিশ্বের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জলপথও অনিরাপদ হয়ে পড়বে।

  • অনিশ্চয়তা: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ এবং ইরানের পদক্ষেপ—উভয়ই শিপিং কোম্পানিগুলোর জন্য বড় ধরণের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ

গত সপ্তাহে দুই দেশই একে অপরের দুটি করে বাণিজ্যিক জাহাজ আটক করেছে:

যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ: মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর ভারত মহাসাগরে 'ম্যাজেস্টিক এক্স' এবং 'টিফানি' নামে দুটি জাহাজ আটক করেছে। তাদের দাবি, এগুলো নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ইরানি তেল পরিবহন করছিল।

ইরানের পদক্ষেপ: ইরানের রিভল্যুশনারি গার্ড 'এমএসসি ফ্রান্সেসকা' এবং 'এপামিনন্ডাস' নামে দুটি জাহাজ আটক করেছে। তাদের অভিযোগ, জাহাজগুলো প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া চলছিল এবং নেভিগেশন সিস্টেমে কারচুপি করেছিল।

নাবিকদের অবস্থা: ফিলিপাইন সরকার নিশ্চিত করেছে যে আটককৃত জাহাজ দুটিতে তাদের ১৫ জন নাবিক রয়েছেন। তবে ইরান কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে যে নাবিকরা বর্তমানে "নিরাপদ ও অক্ষত" আছেন।

আরও পড়ুন