কক্সবাজারের বালুতে ইউরেনিয়াম নিয়ে কী বলছে বিজ্ঞানীরা

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালুতে সরাসরি ইউরেনিয়ামের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি, তবে এখানে তেজস্ক্রিয় বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ও শিল্পে ব্যবহারযোগ্য একাধিক মূল্যবান খনিজের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন গবেষকেরা।

গবেষণা অনুযায়ী, কক্সবাজার উপকূলজুড়ে পাওয়া খনিজগুলোর মধ্যে রয়েছে মোনাজাইট, জিরকন, ইলমেনাইট, রুটাইল, গারনেট, ম্যাগনেটাইট, কায়ানাইট ও লিউকক্সিন। এর মধ্যে মোনাজাইটে স্বল্পমাত্রার ইউরেনিয়াম থাকায় এটি তেজস্ক্রিয় বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে, তবে সেটি সরাসরি ইউরেনিয়াম খনি হিসেবে গণ্য নয়।

এই সম্ভাবনাময় খনিজ সম্পদ ঘিরে গবেষণা শুরু হয় পাকিস্তান আমলে, পরে স্বাধীনতার পর ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় কক্সবাজার সৈকত খনিজ বালি আহরণ কেন্দ্র। বিভিন্ন পর্যায়ের জরিপে দেশে মোট ১৭টি খনিজসমৃদ্ধ এলাকা চিহ্নিত হয়, যার মধ্যে ১৫টিই কক্সবাজার অঞ্চলে।

তবে এত সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এখনো বাণিজ্যিকভাবে খনিজ উত্তোলন শুরু হয়নি। ১৯৯৫ সালে পরীক্ষামূলকভাবে খনিজ পৃথকীকরণ প্রকল্প চালু হলেও তা গবেষণার গণ্ডি ছাড়াতে পারেনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, খনিজ উত্তোলনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও আধুনিক প্রযুক্তির অভাব। দ্বিতীয়ত, দীর্ঘদিনেও কোনো সমন্বিত জাতীয় নীতিমালা গড়ে ওঠেনি, ফলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় হয়নি।

এছাড়া খনিজসমৃদ্ধ এলাকাগুলোর অনেকগুলোই এখন অবকাঠামো নির্মাণ, সড়ক, হোটেল কিংবা প্রাকৃতিক ভাঙনের কারণে আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে বিলীন হয়ে গেছে। কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডও এসব এলাকায় প্রভাব ফেলেছে।

গবেষকেরা আরও জানিয়েছেন, বর্তমানে খনিজ এলাকাগুলোর সীমানা চিহ্নিত নেই, অনেক ক্ষেত্রে সংরক্ষণের উদ্যোগও অনুপস্থিত। ফলে মূল্যবান সম্পদ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

অন্যদিকে, গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব অবস্থাও নাজুক। জনবল সংকট, যন্ত্রপাতির অকার্যকারিতা, জলাবদ্ধতা ও অবকাঠামোগত দুর্বলতা গবেষণা কার্যক্রমকে সীমিত করে ফেলেছে।

সব মিলিয়ে কক্সবাজারের বালুতে থাকা এই ‘কালো সোনা’ এখনো সম্ভাবনার স্তরেই আটকে আছে। কার্যকর নীতি, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ ছাড়া এর বাণিজ্যিক উত্তোলন শুরু হওয়া অনিশ্চিতই থেকে যাচ্ছে।

AS
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত