ইরানি তেলের ট্যাংকার জোরপূর্বক জব্দ করার মার্কিন পদক্ষেপকে ‘রাষ্ট্রীয় জলদস্যুতা ও সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে অভিহিত করে এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে তেহরান। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি বুধবার (২৯ এপ্রিল) নিরাপত্তা পরিষদের কাছে লেখা এক চিঠিতে এই কড়া বার্তা দিয়েছেন।
চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের এই বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার পূর্ণ অধিকার ইরানের রয়েছে।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক জলসীমায় ‘এমটি ম্যাজেস্টিক’ (MT Majestic) ও ‘এমটি টিফানি’ (MT Tiffany) নামে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে ৩৮ লাখ ব্যারেল তেল গায়ের জোরে জব্দ করে মার্কিন বাহিনী। এই ঘটনার পরেই দুই দেশের মধ্যে নতুন করে চরম কূটনৈতিক উত্তেজনা শুরু হয়।
ইরানি রাষ্ট্রদূত ইরাভানি তার চিঠিতে উল্লেখ করেন, মার্কিন অ্যাটর্নির সাম্প্রতিক বিবৃতি থেকেই এটি প্রমাণিত যে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে মাঝসমুদ্রে জাহাজগুলো আটক করা হয়েছে। একে জাতিসংঘ সনদের সরাসরি লঙ্ঘন এবং সার্বভৌম রাষ্ট্রের ওপর আগ্রাসনের শামিল হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি।
ইরাভানি সতর্ক করে বলেন, বৈধ বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর এই ধরণের হামলা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতাকে আরও উসকে দিচ্ছে। ইরান এই ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘আইনহীনতার নেশা’ হিসেবেও আখ্যায়িত করেছে।
তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এসেছে যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগ্রাসন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ইরান এই অবরোধকে অঘোষিত যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সাধারণ চলাচলের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে।
ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, জব্দকৃত তেল ও জাহাজ ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত এবং এই অবৈধ অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো ধরণের আলোচনায় বসা সম্ভব নয়।
চিঠির শেষে আমির সাঈদ ইরাভানি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে মার্কিন এই বর্বরোচিত কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানানোর আহ্বান জানান এবং জব্দকৃত মালামাল অবিলম্বে নিঃশর্তভাবে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি তোলেন। সূত্র: প্রেস টিভি।
হঠকারী পদক্ষেপ নিলেই শত্রুকে দিতে হবে চরম মূল্য: ইরানি সেনাবাহিনী
হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ব্যর্থ যুক্তরাষ্ট্র
হরমুজ প্রণালিতে ইরানকে টোল দিতে নারাজ উপসাগরীয় ৬ দেশ
এশীয় মিত্রদের মার্কিনিদের হারানোর কৌশল ও অস্ত্র দিতে চায় ইরান