আড়ালে থেকেও ইরানের যুদ্ধকৌশল নির্ধারণে সক্রিয় মোজতবা খামেনি

আপডেট : ১০ মে ২০২৬, ০৮:০৫ এএম

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এখনো জনসমক্ষে না এলেও দেশটির সামরিক ও যুদ্ধকৌশল নির্ধারণে পর্দার আড়াল থেকে মূল ভূমিকা পালন করছেন। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পর্যালোচনার ভিত্তিতে এক প্রতিবেদনে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম সিএনএন (CNN)।

মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও সংঘাত নিরসনের আলোচনার কৌশল নির্ধারণে সহায়তা করছেন। তবে বর্তমানে বিভক্ত হয়ে পড়া ইরানি ক্ষমতা কাঠামোর মধ্যে প্রকৃত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কার হাতে, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় তার বাবা ও সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ ইরানের কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। ওই হামলায় মোজতবা খামেনিও গুরুতর আহত হন বলে জানা গেছে। এরপর থেকেই তিনি জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকায় তার স্বাস্থ্য ও রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, মোজতবা খামেনি এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার শরীরের এক পাশ—মুখ, হাত, বুক ও পায়ে গুরুতর দগ্ধের চিহ্ন রয়েছে। তিনি কোনো ইলেকট্রনিক যোগাযোগ ব্যবহার করছেন না; বরং সরাসরি সাক্ষাৎ বা দূতের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান করছেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দপ্তরের প্রটোকল প্রধান মাজাহের হোসেইনি দাবি করেন, মোজতবা খামেনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। তিনি বলেন, তার পা ও কোমরে সামান্য আঘাত লেগেছিল এবং কানের পেছনে ছোট একটি স্প্লিন্টারের আঘাত রয়েছে, যা দ্রুত সেরে উঠছে।

এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানান, তিনি মোজতবা খামেনির সঙ্গে আড়াই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেছেন। এটিই নতুন সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে কোনো শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তার প্রথম প্রকাশ্য সাক্ষাতের তথ্য।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, যুদ্ধ ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে দুর্বল করলেও পুরোপুরি ধ্বংস করতে পারেনি। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা এখনো কার্যকর রয়েছে।

একই সঙ্গে সিআইএর এক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, চলমান মার্কিন অবরোধ সত্ত্বেও ইরান আরও প্রায় চার মাস অর্থনৈতিকভাবে টিকে থাকতে সক্ষম হতে পারে।

তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের নেতৃত্ব এখনো খণ্ডিত ও অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে, যা যুদ্ধবিরতি ও চূড়ান্ত সমঝোতা আলোচনায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, তাদের পুরো ব্যবস্থা এখনো অত্যন্ত বিভক্ত এবং অকার্যকর। এটিই সম্ভবত আলোচনার অগ্রগতিতে বড় বাধা। সূত্র: সিএনএন

YA
আরও পড়ুন