যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির পরোক্ষ প্রভাব পড়েছে বিশ্ব বাজারে, যার বড় খেসারত দিতে হচ্ছে শ্রীলঙ্কার বিখ্যাত চা শিল্পকে। এই সংকটের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে চায়ের চাহিদা কমে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন দেশটির চা শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা।
শ্রীলঙ্কার হ্যাটন অঞ্চলের ডানকেল্ড চা বাগানের কর্মী জাসিন্থা মালার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, 'আমরা জানি না এই পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেব। এই সংকটের জের যদি এভাবে চলতে থাকে, তবে আমাদের মতো অসংখ্য মানুষ চরম বিপদে পড়বে।'
এই পরিস্থিতির কারণে রান্নার গ্যাসের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় জাসিন্থা এখন বাধ্য হয়ে লাকড়ি বা খড়ি দিয়ে পরিবারের রান্নার কাজ চালাচ্ছেন। রফতানি কমে যাওয়ায় তাদের কাজের ভবিষ্যৎ নিয়েও চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
শ্রীলঙ্কার এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (EDB)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ মাসে চা রফতানি থেকে দেশটির আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭.৩ শতাংশ কমে ১১৪.৭৫ মিলিয়ন (১১ কোটি ৪৭ লাখের বেশি) ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এই ধসের অন্যতম প্রধান কারণ হলো শ্রীলঙ্কান চায়ের সবচেয়ে বড় ক্রেতা ইরাকে চাহিদা এক ধাক্কায় ৩৮ শতাংশ কমে গেছে। পাশাপাশি, লজিস্টিক ও জাহাজ চলাচল ব্যবস্থায় চরম বিপর্যয় ঘটায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) শ্রীলঙ্কার চা রফতানি প্রায় ৯৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
দিলমাহ সিলন টি কোম্পানি পিএলসি-এর চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী দিলহান ফার্নান্দো পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, আমরা বেশ কিছু সময় ধরে এই বাড়তি খরচগুলো নিজেরা বহন করে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু জ্বালানির চড়া দাম এবং এর ফলে লজিস্টিক বা পরিবহন খাতের ওপর যে ধাক্কা এসেছে—তা কলম্বো থেকে দুবাই কিংবা পার্থ থেকে মেলবোর্ন, সব জায়গাতেই মুদ্রাস্ফীতিকে উসকে দিচ্ছে।
ফ্লোটিলা ত্রাণকর্মীদের হাত বেঁধে অবমাননা, বিশ্বজুড়ে তীব্র ক্ষোভ