কাঁধে বহনযোগ্য অস্ত্রেই ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমান

আপডেট : ০১ জুন ২০২৬, ০৯:১৩ এএম

ইরানে চলমান সশস্ত্র সংঘাতে আমেরিকার একটি অত্যাধুনিক এফ-১৫ সিরিজের যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, অত্যন্ত শক্তিশালী এই যুদ্ধবিমানটি চীনের তৈরি কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের (ম্যানপ্যাড) আঘাতে ভূপাতিত হয়ে থাকতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসে দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের আকাশে বিধ্বস্ত হওয়া এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল বিমানটি চীনা তৈরি স্বল্পপাল্লার উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে নিখুঁতভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হতে পারে বলে জোরালো ধারণা করা হচ্ছে। পুরো বিষয়টি এখনও পেন্টাগনের উচ্চপর্যায়ে তদন্তাধীন রয়েছে। গত কয়েক দশকের মধ্যে আকাশযুদ্ধে কোনো মার্কিন যুদ্ধবিমান শত্রুপক্ষের সরাসরি গুলিতে ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম।

বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটিতে দুজন দক্ষ ক্রু সদস্য ছিলেন, যারা বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়ার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে নিরাপদে ইজেক্ট করতে সক্ষম হন। প্রায় সাত ঘণ্টার দীর্ঘ চেষ্টার পর বিমানের মূল পাইলটকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হলেও দ্বিতীয় ক্রু সদস্যকে খুঁজে পেতে উদ্ধারকারী দলটির বেশি সময় লাগে। পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, ওই দ্বিতীয় ক্রু সদস্য নিজেকে বাঁচাতে ইরানের দুর্গম জাগ্রোস অঞ্চলের গভীর পাহাড়ি গুহায় লুকিয়ে ছিলেন এবং নিখোঁজ হওয়ার প্রায় দুই দিন পর মার্কিন বিশেষ কমান্ডো দল তাকে নাটকীয়ভাবে উদ্ধার করে।

মার্কিন প্রশাসনের আশঙ্কা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাতের সময়ে চীন হয়তো ইরানকে অতিরিক্ত গোপন সামরিক সহায়তা দিয়ে থাকতে পারে। এর মধ্যে মার্কিন রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম স্টেলথ বিমান প্রযুক্তি ও দূরপাল্লার রাডার সিস্টেমও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগুলো মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগলের মতো উন্নত যুদ্ধবিমান নিখুঁতভাবে শনাক্ত ও অনুসরণ করার ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা রাতারাতি বাড়িয়ে দিয়েছে।

এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি চীনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ এনেছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ট্র্যাক ও গোয়েন্দা নজরদারি করতে ইরানকে একচেটিয়াহাবে চীনা স্যাটেলাইট পরিষেবা ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এর জের ধরে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই তিনটি শীর্ষ চীনা স্যাটেলাইট কোম্পানির ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে। তবে ওয়াশিংটনের এই সব অভিযোগ শুরু থেকেই সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে নাকচ করে দিয়েছে বেইজিং।

চীন ঠিক কখন এবং কোন রুট ব্যবহার করে ইরানকে এই বিশেষ সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে, তা এখনও শতভাগ নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে ইরান যদি এই যুদ্ধে সত্যিই চীনের তৈরি অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করে থাকে, তাহলে তা আগামী দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার বৈশ্বিক কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

এই বিপজ্জনক ঘটনাটি ঠিক এমন এক স্পর্শকাতর সময়ে সামনে এলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের স্থায়ী অবসানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সরাসরি সাহায্য নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন।

চলতি মাসের শুরুর দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, চীনের রাষ্ট্রপ্রধান শি জিনপিং ব্যক্তিগতভাবে তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে চীন এই মুহূর্তে ইরানে কোনো ধরনের মারাত্মক অস্ত্র পাঠাচ্ছে না। ট্রাম্প বলেন, “প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ব্যক্তিগতভাবে আমাকে জোরালো প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তিনি ইরানে কোনো অস্ত্র পাঠাচ্ছেন না। এটি কূটনৈতিকভাবে একটি চমৎকার প্রতিশ্রুতি। আমি তার মুখের কথায় পূর্ণ বিশ্বাস করি এবং মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমি এর ভূয়সী প্রশংসা করি।” সূত্র: এনবিসি নিউজ

SN
আরও পড়ুন