মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সঙ্কট ও ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সুইজারল্যান্ডে রোববার (২১ জুন) নতুন দফায় আলোচনায় বসেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। এই বৈঠকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সরাসরি উপস্থিতি কূটনৈতিক মহলে বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
বৈঠকের শুরুতে গণমাধ্যমের সামনে উপস্থিত হন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। এ সময় তার এক পাশে ছিলেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল-সানি এবং অন্য পাশে ছিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
তবে চলমান এই সংলাপে ভাইস প্রেসিডেন্টের সরাসরি অংশগ্রহণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চুক্তি-সংক্রান্ত আলোচনায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ম্যাথিউ ব্রাইজা। আল জাজিরাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অতীতের যেকোনো আলোচনার তুলনায় এবারের আয়োজন একেবারেই ভিন্ন।
ব্রাইজা বলেন, জটিল কোনো আন্তর্জাতিক আলোচনার ক্ষেত্রে সাধারণত বিশেষজ্ঞদের একটি শক্তিশালী দল অংশ নেয়। বিশেষ করে পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে গভীর কারিগরি জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অপরিহার্য। তার মতে, বর্তমান মার্কিন প্রতিনিধিদলে সেই পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ উপস্থিতি চোখে পড়ছে না, অথচ ইরান দক্ষ ও অভিজ্ঞ পরমাণু বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আলোচনার প্রাথমিক পর্যায়ে বিষয়টি তেমন প্রভাব না ফেললেও পরবর্তী ধাপে যখন পরমাণু কর্মসূচি-সংক্রান্ত নথি ও কারিগরি বিষয়াদি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শুরু হবে, তখন এই ঘাটতি বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
সাবেক এই কূটনীতিকের মতে, মার্কিন প্রতিনিধিদল তুলনামূলকভাবে ছোট এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির অভাব রয়েছে। তিনি বলেন, অতীতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাগুলোতে ভাইস প্রেসিডেন্টের মতো উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকেরা সাধারণত চূড়ান্ত পর্যায়ে যুক্ত হতেন, যখন চুক্তির মূল কাঠামো প্রায় সম্পন্ন হয়ে যেত। আলোচনার মাঝপথে তাদের সম্পৃক্ত করা হতো না, কারণ আলোচনা ব্যর্থ হলে তার রাজনৈতিক দায়ও বহন করতে হতে পারে।
ব্রাইজা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ইরান যেখানে পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনার টেবিলে বসেছে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রতিনিধিদলের কাঠামো ও প্রস্তুতি পুরো আলোচনার সফলতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। সূত্র: আল জাজিরা