দীর্ঘ সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটাতে অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে একটি ঐতিহাসিক ফ্রেমওয়ার্ক (রূপরেখা) চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ইসরায়েল ও লেবানন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ এই চুক্তিতে তিনটি পক্ষ স্বাক্ষর করেছে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই চুক্তিকে "শুরুরও শুরু" বলে অভিহিত করেছেন। তবে এই চুক্তি সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননের বিশাল অঞ্চল থেকে ইসরায়েলি সেনা এখনই প্রত্যাহার হচ্ছে না এবং প্রয়োজন মনে করলে ইসরায়েল হামলা অব্যাহত রাখবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে জানান, এই চুক্তিটি লেবাননের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র ও তাদের সন্ত্রাসী অবকাঠামো ধ্বংস করার জন্য একটি স্পষ্ট ও সুগঠিত প্রক্রিয়া তৈরি করবে। এর ফলে নাগরিকদের ওপর থেকে হুমকি অপসারিত হলে ইসরায়েল তার নিজের সীমান্তে ফিরে যেতে পারবে। এছাড়া এটি বাস্তবায়নে একটি ত্রিপক্ষীয় সামরিক সমন্বয় গোষ্ঠী গঠন করা হয়েছে।
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো সমস্ত লেবানন ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার নিশ্চিত করা। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত পাঠ্য অনুযায়ী, এটি একটি পর্যায়ক্রমিক প্রক্রিয়া, যার অধীনে লেবাননের সেনাবাহিনী প্রথমে দেশের সমস্ত অঞ্চলের ওপর কার্যকর সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করবে।
তবে শর্ত হলো, তার আগে হিজবুল্লাহর মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত করতে হবে। এরপরই কেবল ইসরায়েল পর্যায়ক্রমে লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে। প্রাথমিক পর্যায় হিসেবে দুটি ‘পাইলট জোন’ (পরীক্ষামূলক এলাকা) নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে লেবানন সেনাবাহিনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং এরপরই সাধারণ মানুষ সেখানে ফিরতে পারবে ও আন্তর্জাতিক সহায়তায় পুনর্গঠন কাজ শুরু হবে।
গত ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে হিজবুল্লাহর সাথে ইসরায়েলের যুদ্ধ চলছে, যেখানে চলতি বছরের মার্চ মাস থেকেই লেবাননে ৪ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। ইসরায়েল ইতিমধ্যেই দক্ষিণ লেবাননের অসংখ্য গ্রাম ও শহর ধ্বংস করে দিয়েছে এবং বর্তমানে তারা লেবাননের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অঞ্চল দখল করে রেখেছে।
চুক্তি স্বাক্ষরের দিনও শুক্রবার লেবাননের মাফাদুন শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ২ জন নিহত হয়েছেন এবং নাবাতিহ আল-ফাওকা শহরেও বোমাবর্ষণ করা হয়েছে। আল-মানসুরি শহরের বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার জন্য লিফলেট ফেলেছে ইসরায়েলি বাহিনী। তবে আল জাজিরার কাছে লেবাননের সামরিক সূত্র দক্ষিণ লেবাননের আলী আল-তাহের পাহাড়ের চূড়া ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি অস্বীকার করেছে।
এই চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের সংশয় রয়েছে, কারণ ইসরায়েলের লড়াই কেবল লেবানন রাষ্ট্রের সাথে নয়, বরং হিজবুল্লাহর সাথেও। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই লেবাননের সাথে তাদের যুদ্ধাবস্থা চলছে। ১৯৮২ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ লেবানন দখল করে রেখেছিল ইসরায়েল। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সাফ জানিয়েছেন, "যতক্ষণ না হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র হচ্ছে এবং ইসরায়েলের ওপর হুমকি কাটছে, ততক্ষণ ইসরায়েলি বাহিনী লেবানন ছাড়বে না।" অপরদিকে, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এই চুক্তিকে সার্বভৌমত্ব ফিরিয়ে আনার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই ওয়াশিংটন আলোচনায় হিজবুল্লাহর কোনো উপস্থিতি ছিল না। হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাঈম কাসেম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইসরায়েলকে নিঃশর্তভাবে লেবানন ছাড়তে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা যাবে না। হিজবুল্লাহর সংসদ সদস্য হাসান ফাদলুল্লাহ সতর্ক করে বলেছেন, ওয়াশিংটনের এই চুক্তি জোর করে বাস্তবায়ন করতে গেলে লেবাননে গৃহযুদ্ধ শুরু হতে পারে।
চুক্তিতে ইসরায়েল লেবাননের ভূখণ্ডের প্রতি কোনো লোভ নেই বলে উল্লেখ করলেও ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ ইঙ্গিত দিয়েছেন, তারা দীর্ঘমেয়াদে লেবাননে থাকতে পারেন। তিনি বলেন, হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র হওয়া পর্যন্ত এবং আমাদের সীমানা নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত আমরা সেখানে থাকব। সূত্র: আল জাজিরা
ঘরে ফিরতে ভয়, ভেনেজুয়েলার রাস্তায় অসংখ্য মানুষ
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৯২০
ফের যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা, হুমকিতে যুদ্ধবিরতি
'ইরান হামলা চালালে ‘সবচেয়ে বড় ভুল’ হবে'
ইরান-লেবানন-পশ্চিম তীরে দেড় কোটি ডলার অনুদান দেবে জাপান