হামাস সম্পূর্ণ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত গাজা ছাড়বে না ইসরায়েল

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১২ এএম

হামাসের অস্ত্র সমর্পণ সম্পূর্ণ হওয়ার পরেই কেবল গাজা থেকে ইসরায়েল সেনা প্রত্যাহার করবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন 'বোর্ড অব পিস'। সংস্থাটির পরিচালক নিকোলে মলাদেনভ ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যকার একটি বৈঠকের পর এই তথ্য জানানো হয়।

সোমবার (৩ আগস্ট) পশ্চিম জেরুজালেমে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত সমঝোতা চুক্তিটি নিয়ে ইসরায়েলি রাজনৈতিক নেতাদের অসন্তোষের মধ্যেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।

ট্রাম্পের মাধ্যমে গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছে, ভুল খবরের বিপরীতে আমরা জানাচ্ছি যে, নিরস্ত্রকরণ সম্পন্ন হওয়ার পরই কেবল 'ইয়েলো লাইন'-এর ওপারে সেনা প্রত্যাহার করবে ইসরায়েল, যেমনটা হামাস মধ্যস্থতাকারীদের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এটি হালকা অস্ত্র, ভারী অস্ত্র এবং সুড়ঙ্গ—সবকিছুর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।

সংস্থাটি আরও জানায়, লক্ষ্য পরিষ্কার এবং এটি নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই, গাজা উপত্যকায় অস্ত্রের ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ করা এবং অস্ত্রের শাসন থেকে বেসামরিক প্রশাসনে ফিরে যাওয়া।

অন্যদিকে হামাস জোর দিয়ে বলেছে, ইসরায়েল যদি চুক্তির নিজের অংশ বাস্তবায়ন না করে, তবে এই চুক্তি কার্যকরী হবে না।

বৈঠকের বিষয়ে জানেন এমন দুটি সূত্র বার্তা সংস্থা এপি-কে জানিয়েছে, আলোচনার সময় মলাদেনভ নেতানিয়াহুকে গাজায় হামলা বন্ধ করার জন্য অনুরোধ করেন। তবে ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

গত বছরের অক্টোবরের ‘যুদ্ধবিরতি’র পর থেকে তারা ১,২০০-এর বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে, যার মধ্যে এই অনাস্ত্রিকীকরণ চুক্তি ঘোষণার পরই প্রাণ হারিয়েছেন ৩৬ জনের বেশি মানুষ। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে গাজায় এ পর্যন্ত ৭৩,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

বৈঠকের আগে নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানায়, জনসমক্ষে প্রকাশিত চুক্তির অনুলিপিটি ইসরায়েলের অবস্থানকে সঠিকভাবে তুলে ধরে না এবং তারা তাদের উদ্বেগের কথা যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে।

ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ বলেছেন, এই চুক্তিটি ইসরায়েলি সরকারের অনুমোদন দেওয়া চুক্তির চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং তিনি এ বিষয়ে নতুন করে ভোটের দাবি জানান।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনের হামলার সমালোচনা করে মলাদেনভ লেখেন, সবাই যদি আন্তরিকভাবে চেষ্টা করে, তবে একটি স্থায়ী শান্তি অর্জন করা সম্ভব।

এদিকে চুক্তির মধ্যস্থতাকারী দেশ মিসর, কাতার এবং তুরস্ক এক যৌথ বিবৃতিতে বেসামরিক নাগরিক ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে।

হামাস জানিয়েছে, তারা এবং অন্যান্য ফিলিস্তিনি দল যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ সম্পন্ন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তারা মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে একটি স্পষ্ট ও আনুষ্ঠানিক উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে।

YA
আরও পড়ুন