নির্বাচনের মধ্যেই রাশিয়াজুড়ে ১১০০ ড্রোন হামলা চালালো ইউক্রেন

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৪ পিএম

রাশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় এক রাতে ১ হাজার ১১০টির বেশি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে মস্কো। এর মধ্যে কয়েকশ ড্রোন রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর দিকে পাঠানো হয়েছিলো বলে রুশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন এই হামলাকে রাজধানীর ওপর এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

হামলায় মস্কোর একটি তেল শোধনাগার ও একটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে রুশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন এবং আরও ২০ জন আহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত একটি আবাসিক ভবন থেকে প্রায় ৪০০ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশজুড়ে এবং ক্রিমিয়া ও কৃষ্ণসাগরের ওপর ১ হাজার ১১০টির বেশি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস বা প্রতিহত করা হয়েছে। অন্যদিকে রুশ কর্মকর্তাদের পরবর্তী হিসাব অনুযায়ী, শনিবার থেকে মস্কোর দিকে আসা ৪৫০টি ড্রোনসহ ১ হাজার ৬০০টির বেশি ড্রোন প্রতিহত করা হয়।

হামলার সময় রাশিয়ায় পার্লামেন্ট নির্বাচনের শেষ দিন চলছিল। মস্কোর মেয়র সোবিয়ানিন দাবি করেছেন, নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করাই হামলার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল। তবে ইউক্রেন এ হামলা নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, রুশ তেল ও লজিস্টিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে বিভিন্ন ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব স্থাপনা রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার জন্য অর্থ ও সরবরাহ জোগায়।

এদিকে রয়টার্স জানিয়েছে, হামলার পর মস্কো তেল শোধনাগারের অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শিল্প খাতের তিনটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শোধনাগারের দুটি প্রধান ক্রুড ডিস্টিলেশন ইউনিটে আগুন লাগে এবং মেরামতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

মস্কো তেল শোধনাগারটি রাশিয়ার রাজধানীতে জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ উৎসগুলোর একটি। ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১ কোটি ১৬ লাখ টন অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করেছিল। ফলে এর কার্যক্রমে বিঘ্ন রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায়ও প্রভাব ফেলতে পারে।

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের চার বছরের বেশি সময়ে উভয় পক্ষই দূরপাল্লার ড্রোন ব্যবহার করে একে অপরের ভূখণ্ডের গভীরে হামলা চালিয়ে আসছে। বিশেষ করে ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে। এর ফলে রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ ও দাম নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

অন্যদিকে একই সময়ে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও অন্যান্য এলাকাতেও রুশ হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক রুশ ড্রোন হামলায় বেসামরিক মানুষও নিহত হয়েছেন। ফলে দুই দেশের মধ্যেই দূরপাল্লার আকাশ হামলা ক্রমেই যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে।

সাম্প্রতিক হামলার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর ব্যাপকতা। মস্কোর দিকে একসঙ্গে কয়েকশ ড্রোন পাঠানো এবং রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ শিল্প স্থাপনায় আঘাত হানার ঘটনা ইউক্রেনের দূরপাল্লার হামলার সক্ষমতার বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে। তবে হামলার সামরিক ফলাফল বা ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ মাত্রা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

রাশিয়া ও ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নিয়েও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে। কিন্তু মাঠে এ ধরনের বড় আকারের ড্রোন হামলা অব্যাহত থাকায় যুদ্ধের উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত