বাংলাদেশ ক্রিকেটের অভিষেক টেস্ট দলের অন্যতম সদস্য ফাহিম মুনতাসিরের জীবনকাহিনি ব্যতিক্রমী ও কষ্টদায়ক। ক্যারিয়ারজুড়ে খেলেছেন অফ স্পিনার হিসেবে। বর্তমান প্রজন্মের কাছে তার নাম খুব বেশি পরিচিত না হলেও ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে তিনি ‘সুমিত’ নামেই সুপরিচিত।
তবে সম্প্রতি তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে এক বিরল তথ্য সামনে এসেছে—জন্ম থেকেই তিনি একটি মাত্র কিডনি নিয়ে বেঁচে আছেন এবং ক্রিকেট খেলেছেন। তীব্র শারীরিক কসরতের খেলা ক্রিকেটে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করলেও একটি কিডনির ঘাটতি তিনি কখনোই বুঝতে পারেননি, খেলায়ও কোনো সমস্যা হয়নি। এমনকি খেলাধুলা থেকে অবসরে যাওয়ার দীর্ঘ ২১ বছর পর তিনি প্রথম জানতে পারেন যে তার শরীরে জন্ম থেকেই একটি কিডনি নেই।
১৯৯৮ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে প্লেট চ্যাম্পিয়ন হওয়া বাংলাদেশ দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন ফাহিম। এর পরের বছরই তাকে যুব দলের অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়। বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে তিনটি টেস্ট ও তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন এই অফ স্পিনার। ২০০০ সালে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টের মূল স্কোয়াডে জায়গা পেলেও সেবার একাদশে স্থান হয়নি।
তবে ২০০১ সালের নভেম্বরে চট্টগ্রামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে দিয়ে জাতীয় দলে যাত্রা শুরু করেন তিনি। ২০০২ সালের জানুয়ারিতে ঢাকায় পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয় তার। ঐ একই বছরের জুলাইতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট এবং সেপ্টেম্বরে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে জীবনের শেষ ওয়ানডে ম্যাচটি খেলেন তিনি। খেলার মাঠে দীর্ঘ সময়ে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বাচ্ছন্দ্যে বল করলেও কখনোই কোনো শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করেননি।
২০২৩ সালে সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে ভারতের দিল্লিতে যান ফাহিম মুনতাসির। সেখানে পেটের আল্ট্রাসাউন্ড করার পর চিকিৎসক প্রথম দেখতে পান যে তার একটি কিডনি অনুপস্থিত। ডাক্তার কোনো পুরনো অস্ত্রোপচারের ইতিহাস জানতে চাইলে ফাহিম 'না' বলেন। তখনই চিকিৎসকরা নিশ্চিত হন এটি জন্মগত ঘটনা। সাধারণত এক হাজার শিশুর মধ্যে একজন একটি কিডনি নিয়ে জন্মায়, ফাহিম ছিলেন তাদেরই একজন। একটি কিডনি নিয়ে খেলাধুলা করায় কোনো বাধা না থাকায় এতদিন অনায়াসেই খেলে গেছেন তিনি।
তবে বর্তমানে গুরুতর কিডনিজনিত জটিলতায় ভুগছেন ৫০ বছর বয়সী এই সাবেক ক্রিকেটার। রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা অস্বাভাবিক বাড়ায় এ বছরের ৩০ জানুয়ারি থেকে তাকে নিয়মিত ডায়ালাইসিস করাতে হচ্ছে। বর্তমানে সপ্তাহে দুই দিন ডায়ালাইসিস নিচ্ছেন তিনি। চিকিৎসকরা দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দিয়েছেন, যার আনুমানিক খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ৫০ লাখ টাকা। কঠিন এই সময়ে তার পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং ক্রিকেটারদের সংগঠন ‘কোয়াব’।
সকালের নাশতায় রাখতে পারেন ১১ পুষ্টিকর খাবার
একই মঞ্চে ট্রাম্প, পেজেশকিয়ান