যুক্তরাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলে মার্কিন বিমানঘাঁটি আরএএফ ফেয়ারফোর্ডের কাছে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার সন্দেহে আটক পাঁচজনকে জামিনে মুক্তি দিয়েছে ব্রিটিশ পুলিশ। তবে তদন্ত এখনো শেষ হয়নি বলে জানিয়েছে দেশটির কাউন্টার টেররিজম পুলিশ।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাজ্যের কাউন্টার টেররিজম পুলিশের প্রধান লরেন্স টেলর জানান, পাঁচজনকেই কঠোর জামিনের শর্তে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তারা সবাই ব্রিটিশ নাগরিক এবং লন্ডনের বাসিন্দা। তাদের বয়স ২০-এর কোঠায়।
এর আগে রোববার ভোরে ইংল্যান্ডের পশ্চিমাঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনী ব্যবহার করে এমন রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (RAF) ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির কাছে তিনটি সাদা ভ্যান দেখতে পেয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তি পুলিশকে খবর দেন। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে আটক করা হয়।
তাদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক-সংক্রান্ত অপরাধ এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহে তদন্ত শুরু হয়। ঘাঁটির আশপাশে নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি স্থানীয় ওয়েলফোর্ড গ্রামের ৮৫টি বাড়ির বাসিন্দাদের সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা রোবট ব্যবহার করে ভ্যানগুলো পরীক্ষা করেন।
ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ এখনো হামলার পেছনে কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করেনি। তবে তদন্তকারীরা ইরান, রাশিয়া কিংবা রাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়—এমন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্ভাব্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখছেন।
কাউন্টার টেররিজম পুলিশের প্রধান লরেন্স টেলর বলেছেন, তদন্তে বিভিন্ন দিক বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে সন্দেহভাজনরা কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের হয়ে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কাজ করেছে কি না, সেটিও রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, পাঁচজনকে জামিনে মুক্তি দেওয়ার অর্থ তদন্ত শেষ হয়ে যাওয়া নয়।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ঘটনাটিতে একজন ‘বিদেশি পক্ষের’ সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে তিনি কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি এবং এ দাবির পক্ষে বিস্তারিত তথ্যও প্রকাশ করেননি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ঘটনাটির সঙ্গে ইরানের সম্ভাব্য যোগসূত্রের কথা বলেছেন।
লন্ডনে ইরানের দূতাবাস ঘটনাটির সঙ্গে তেহরানের কোনো সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। এক বিবৃতিতে তারা এ ধরনের দাবিকে ‘ভিত্তিহীন ও বিদ্বেষপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করে।
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ফেয়ারফোর্ডের ঘটনায় ইরানের সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ ছাড়াই এমন দাবি করা হচ্ছে।
তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র ইরান-সংশ্লিষ্ট উদ্দেশ্যকে সম্ভাব্য একটি দিক হিসেবে বিবেচনা করার কথা জানিয়েছে। একই সঙ্গে রুশ নাশকতা বা ইসলামপন্থী কোনো গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কিয়েভের বিজ্ঞান একাডেমিতে রুশ ড্রোন হামলা, নিহত ১০
ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের আহ্বান স্যান্ডার্সের