বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮০০টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকার কোনো প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবি। একই সঙ্গে মার্কিন জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের মধ্যে কথা বলার সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন জনগণের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে মোহেবি বলেন, আমেরিকানরা আমাদের অঞ্চল সম্পর্কে জানেন না। আমাদের তাদের সঙ্গে কথা বলার একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা প্রয়োজন। আমরা মার্কিন নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে প্রস্তুত এবং তারাও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। এ সময় তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে ৮০০টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকার কোনো কারণ নেই।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর বার্ষিক বাজেট যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর বাজেটের মাত্র ১ শতাংশ বলেও দাবি করেন আইআরজিসির এই মুখপাত্র। যুক্তরাষ্ট্রের শাসকেরা নিজেদের জনগণের কথা ভাবেন না; এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, দেশটির ৩ কোটি ৯০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছেন।
ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো চেষ্টা করছে না বলেও দাবি করেছে আইআরজিসি। মার্কিন জনগণের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে মোহেবি বলেন, ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করেনি এবং এ অবস্থানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে মার্কিন নাগরিকদের প্রতি তাদের সরকারকে প্রশ্ন করার আহ্বান জানান তিনি; কেন আইআরজিসিকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। আইআরজিসিকে ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করার পেছনে ইরান ও অঞ্চলটিতে ‘লুটপাট’ ঠেকানোর ভূমিকা দায়ী বলে দাবি করেন মোহেবি।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ‘অপরাধের’ অভিযোগও তোলেন তিনি। তার দাবি, স্কুল, হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, মসজিদ ও গির্জায় হামলার মতো কর্মকাণ্ড সম্পর্কে মার্কিন নাগরিকরা অবগত নন। মার্কিন নেতৃত্বের পররাষ্ট্রনীতি পরিবর্তনের সময় এসেছে কি না; এমন প্রশ্নও তোলেন আইআরজিসির মুখপাত্র। তিনি বলেন, বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোর জন্য সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হামলায় যে অর্থ ব্যয় করে তার মাত্র ১০ শতাংশ খরচ করলেও দেশটি জনপ্রিয় একটি দেশে পরিণত হতো।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের সঙ্গে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির কোনো সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করেছে আইআরজিসি। মোহেবি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আমাদের জনগণকে লুট করতে এবং আমাদের মাতৃভূমিকে বিভক্ত করতে চায়। মার্কিন জনগণের উদ্দেশে আমাদের বার্তার লক্ষ্য সত্য তুলে ধরা, আমেরিকার নির্বাচনকে প্রভাবিত করা নয়।
ট্রাম্প প্রশাসনের ইরানে হামলার পেছনে পারমাণবিক অস্ত্রের বিষয়টি ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি। মোহেবি বলেন, তাদের বিষয় হলো ইরানি জনগণ ও ইরানের সম্পদ লুট করা। তাদের লক্ষ্য ইরানকে খণ্ডিত করা। তাদের নিয়ন্ত্রণে ইরানকে আবার একটি ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রে পরিণত করাই তাদের উদ্দেশ্য। তারা নিজেরাও জানে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করেনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘বড় মিথ্যাবাদী’ আখ্যা দিয়েছেন আইআরজিসির এই মুখপাত্র। মার্কিন জনগণকে সত্য জানানো প্রয়োজন উল্লেখ করে মোহেবি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ব্যর্থ হয়েছে এবং ওয়াশিংটনের মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরে যাওয়া উচিত।
সূত্র : আলজাজিরা
‘যুক্তরাষ্ট্রের সামনে পরাজয় স্বীকার করে অঞ্চল ছাড়ার বিকল্প নেই’
অবশেষে ইরাক ছাড়ছে মার্কিন বাহিনী
মার্কিন জনগণের উদ্দেশে চিঠি প্রস্তুত করেছে আইআরজিসি